Saturday, May 3, 2025

দশানী নদীর বাঁধ ভেঙে কৃত্রিম বন্যা থেকে মুক্তি

জামালপুর, ৩ মে ২০২৫ : জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে দশানী নদীতে নির্মিত দুটি বাঁধ অবশেষে ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা এলাকায় সৃষ্ট কৃত্রিম বন্যার সমস্যা থেকে মুক্তি এনেছে। গত শুক্রবার (২ মে) স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দেওয়ানগঞ্জের খরপাপাড়া ও বকশীগঞ্জের আইরমারী গ্রামে নদীতে নির্মিত বাঁধ দুটি ভেঙে দেওয়া হয়।

বাঁধ ভাঙার ফলে পানিপ্রবাহের বাধা দূর হয়ে কৃত্রিম সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে বাঁধ ভাঙতে বাধা দেওয়ায় দুই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—চর আইরমারী গ্রামের সোনার উদ্দিনের ছেলে রহমত আলী (৪০) ও মৃত হাসেন আলীর ছেলে ইউসুফ আলী (৩২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খরপাপাড়ায় দশানী নদীতে প্রতি বছর তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। বারবার জানানো সত্ত্বেও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে স্থানীয়রা নদীতে আড়াআড়িভাবে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন, যা পূর্ব দিক থেকে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এতে বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী, শেখপাড়া, খানপাড়া, বাঙালপাড়া, মদনেরচর, নীলেরচর, কুতুবেরচর ও চরগাজিরপাড়া গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
অন্যদিকে, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের চর আইরমারী গ্রামের বাসিন্দারাও নদীতে আরেকটি বাঁধ নির্মাণ করেন। এই দুটি বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে উজানে কৃত্রিম বন্যা দেখা দেয়, যা বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে দেয়। গত ১ মে বাঁধ ভাঙতে গেলে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে বাঁধ ভেঙে পানি বের করে দেওয়া হয়, যা এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
কামালের বার্ত্তী গ্রামের আব্দুল হান্নান মন্ডল বলেন, “প্রতি বছর নদীতে ভাঙন হয়, কিন্তু সরকার কিছু করে না। তাই এলাকার লোকজন পাল্টাপাল্টি বাঁধ দিয়েছিল। ভাঙন এলাকায় কাজ করলে সমস্যা আর থাকবে না।”
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, “বাঁধের কারণে এলাকায় কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি হয়েছিল। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর বাঁধ দুটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জামালপুরের জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগম বলেন, “উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাঁধ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাদের দাবি অনুযায়ী ভাঙন রোধে কাজ করা হবে।”

এ আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.