সর্বশেষ

Thursday, September 3, 2026

 জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিষেধক: মহাপরিকল্পনা এবং গ্যাজপ্রম প্রেক্ষাপট

জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিষেধক: মহাপরিকল্পনা এবং গ্যাজপ্রম প্রেক্ষাপট

ড. বারেক কায়সার, ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।


ঢাকা গেট নিউজ | ডেইলি এনগেজ বাংলাদেশ (গ্লোবাল অনলাইন ডিস্ট্রিবিউটর)


বিগত নয় বছর ধরে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে। আমদানিকৃত গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম মেটাতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বৃহত্তর অর্থনীতির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র গ্যাস ঘাটতির কারণে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি বড় অংশ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ৩,৫০০ মেগাওয়াটেরও বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এই জ্বালানি সংকট দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি তৈরি পোশাক (আরএমজি), বস্ত্র এবং ভারী শিল্প খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অসংখ্য কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং উৎপাদন বজায় রাখতে জেনারেটর চালানোর কারণে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বহুমুখী সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান অর্জনের জন্য বিশেষজ্ঞরা আমদানিনির্ভরতা থেকে সরে এসে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি সংস্থা গ্যাজপ্রমের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা একটি নির্ণায়ক অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।


২০১২ সাল থেকে গ্যাজপ্রম বাংলাদেশের জ্বালানি ঘাটতি মোকাবেলায় পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের অংশীদার হিসেবে অবদান রেখে আসছে। গত এক দশকে, সংস্থাটি দেশের স্থলভাগের গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে প্রায় ২০টি মূল্যায়ন, অনুসন্ধান এবং উৎপাদন কূপ সফলভাবে নকশা ও খনন করেছে। এই সফল খননকার্য জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে, যা সে সময়ে দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনে সরাসরি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ অবদান রাখে।


গ্যাজপ্রম ভোলা গ্যাসক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। ২০২৩ সালে, গ্যাজপ্রমের সফল অনুসন্ধানের ফলে ইলিশা-১ কূপটি আবিষ্কৃত হয়, যা দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই কূপটি দৈনিক ২০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এছাড়াও, গ্যাজপ্রম শাহবাজপুর ও ভোলা উত্তর এলাকায় টবগি-১ এবং ভোলা উত্তর-২ কূপে সফলভাবে খননকার্য সম্পন্ন করেছে, যা বৃহৎ পরিসরে গ্যাস উত্তোলনের পথ প্রশস্ত করেছে।


গ্যাজপ্রমের নিজস্ব জরিপ অনুযায়ী, ভোলায় প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুদ রয়েছে, যা আগামী সাত বছর ধরে বাংলাদেশের মোট গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বাপেক্স-এর সাথে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে গ্যাজপ্রম এই জরিপ পরিচালনা করে এবং ভোলায় ১৯টি নতুন কূপের স্থান চিহ্নিত করে। ভোলার মূল ভূখণ্ডের বাইরে তারা হাতিয়া, চর ফাসন এবং মনপুরায় আরও ৩০টি নতুন কূপ চিহ্নিত করেছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।


গ্যাজপ্রম ভোলার এই বিশাল গ্যাস মজুদ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার জন্য কার্যকর প্রস্তাব পেশ করেছে। স্বল্পমেয়াদী সমাধান হিসেবে তারা ক্ষুদ্র পরিসরের এলএনজির মাধ্যমে ২০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে ভোলা-বরিশাল পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে তারা ভোলা গ্যাসক্ষেত্রের মজুদের একটি ব্যাপক মূল্যায়ন পরিচালনা এবং ১৪টি নতুন কূপ খননের কাজ করছে। এটি সফল হলে, বরিশাল ও খুলনা মূল ভূখণ্ড জুড়ে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করা যাবে।


বাপেক্সে জনবল ও রিগের সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই অনুসন্ধান সংস্থাটি একই সাথে একাধিক কূপ খনন করতে পারেনি। গ্যাজপ্রম আধুনিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি এবং দ্রুত কার্য সম্পাদনের সক্ষমতা ব্যবহার করে এই ব্যবধান পূরণ করেছে। বর্তমানে, বাপেক্স এবং গ্যাজপ্রম ভোলা গ্যাসক্ষেত্রে যৌথভাবে ২ডি এবং ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ভূগর্ভস্থ গ্যাসের মজুদ এবং সঠিক অবস্থান নির্ভুলভাবে নির্ধারণে সহায়তা করবে। এছাড়াও, দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি কৌশলগত গ্যাস সেক্টর মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে পেট্রোবাংলাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে গ্যাজপ্রম সম্মত হয়েছে।


গ্যাজপ্রমের দৃষ্টিভঙ্গি স্থলভাগের গ্যাসক্ষেত্রের বাইরেও বিস্তৃত। কোম্পানিটি চট্টগ্রামের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর জলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত যৌথ উদ্যোগ গঠনে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চল থাকা সত্ত্বেও, অফশোর অনুসন্ধান বছরের পর বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে। গ্যাজপ্রমের মতো একটি অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক সংস্থার কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আমাদের অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে।


বর্তমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রমাণ করে যে, উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত এলএনজির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য, দেশীয় গ্যাসের মজুদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কোনো বিকল্প নেই। গ্যাজপ্রমের মতো অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণ বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধারে সক্ষম করতে পারে।

 বাংলাদেশ-রাশিয়া খাদ্য নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব: ভুল তথ্য বনাম বাস্তবতা

বাংলাদেশ-রাশিয়া খাদ্য নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব: ভুল তথ্য বনাম বাস্তবতা

ড. বারেক কায়সার, ঢাকা, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।


ঢাকা গেট নিউজ | ডেইলি এনগেজ বাংলাদেশ (গ্লোবাল অনলাইন ডিস্ট্রিবিউটর)


জটিল বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, ব্যাপক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের মধ্যে, বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য খাতের জন্য রাশিয়া সবচেয়ে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে—বৈশ্বিক সংকট, মহামারী, আন্তর্জাতিক খাদ্যশস্য আমদানির প্রতিবন্ধকতা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র চাপ সত্ত্বেও—দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও কৃষি সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কোভিড-১৯ মহামারীর চরম পর্যায়ে কোনো পূর্ব আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই জরুরি খাদ্যশস্য সরবরাহ থেকে শুরু করে সম্প্রতি বাজারদরের চেয়ে কম দামে সার প্রদান এবং পটাশ দান পর্যন্ত—বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মস্কোর ভূমিকা সুস্পষ্ট।


সম্প্রতি বাংলাদেশ-রাশিয়া গম বাণিজ্য নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি উঠেছে। এর জবাবে ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস একটি আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ জারি করেছে। গত ১৯ আগস্ট, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসের দাপ্তরিক পাতায় প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয় যে, রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে গম বাণিজ্য সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হয় এবং আন্তর্জাতিক ফাইটোস্যানিটারি মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলে। চুক্তির সকল শর্ত সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধানে পূরণ করা হয়, যেখানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়াও, কঠোর মান যাচাইয়ের পরেই চট্টগ্রাম বন্দরে চালান গ্রহণ করা হয়; সুতরাং, নিম্নমানের গম সংক্রান্ত দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দূতাবাস গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।


ঐতিহাসিক তথ্য নিশ্চিত করে যে, রাশিয়া সংকটময় মুহূর্তে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। ২০২০-২১ সালে, যখন কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, তখন রাশিয়া কোনো অগ্রিম চুক্তি ছাড়াই বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে গম পাঠিয়েছিল। পরবর্তীকালে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো ১২ শতাংশ প্রোটিন উপাদানের একটি ন্যূনতম মান নিশ্চিত করে নিয়মিত সরবরাহকে স্থিতিশীল করেছে। ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়ার সামগ্রিক খাদ্যশস্য রপ্তানি ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০.৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩-২৪ কৃষি বছরে রাশিয়া বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ ৩.৮ মিলিয়ন টন গম রপ্তানি করেছে—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১.৮ গুণ বেশি। বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম সত্ত্বেও রাশিয়া সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের গম সরবরাহ করেছে।


খাদ্যশস্যের বাইরে, রাসায়নিক সার সরবরাহে রাশিয়ার অবদান—যা বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি—একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-র তত্ত্বাবধানে রাশিয়ার সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উরালকেম উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে ৩০,০০০ মেট্রিক টন এমওপি পটাশ সার হস্তান্তর করে। এছাড়াও, ফসল উৎপাদন খরচ কমাতে রাশিয়া সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার ছাড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। সারের পাশাপাশি সূর্যমুখী তেল, ডাল এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহের জন্য নতুন যৌথ আলোচনা ও চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে।


ইউক্রেন সংঘাতের পর, মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক সুইফট ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে রুশ ব্যাংকগুলোকে বাদ দেওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তা সত্ত্বেও, খাদ্য ও সারের নিরবচ্ছিন্ন আমদানি নিশ্চিত করতে ঢাকা ও মস্কো সক্রিয়ভাবে বিকল্প অর্থপ্রদান ব্যবস্থার সন্ধান করছে। স্থানীয় মুদ্রা বা আঞ্চলিক ব্যাংকিং কাঠামোর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিষ্পত্তি করা হলে ভবিষ্যতে খাদ্য ও সার আমদানি সম্পূর্ণ সংকটমুক্ত থাকবে।


জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করার জন্য পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা অপরিহার্য। বাস্তব তথ্যের সঠিক বিশ্লেষণে এটি নিশ্চিত হয় যে, রাশিয়ার সঙ্গে স্বচ্ছ বাণিজ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী কৃষি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য একটি টেকসই অগ্রগতির পথ তৈরি করে। অপপ্রচার ও ভুল তথ্যের ঊর্ধ্বে উঠে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সর্বোত্তম।


লেখক: শিক্ষাবিদ ও স্বাধীন সাংবাদিক

Friday, May 22, 2026

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর অতর্কিত হামলা: ছাত্রদল ও যুবদলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর অতর্কিত হামলা: ছাত্রদল ও যুবদলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বেলা দুইটার পর ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এনসিপির ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ জানান, হামলার পর পরই তারা নিরাপত্তার জন্য ঝিনাইদহ থানায় অবস্থান নেন।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি:
  • ঘটনার সূত্রপাত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক পোস্টে জানান, ডিসি অফিসের বিপরীত পাশের মসজিদে নামাজ শেষ করে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালায়।
  • হামলার ধরণ: প্রথমে ইট-পাটকেল ও ডিম ছুড়ে মারার পর হকিষ্টিক দিয়ে অতর্কিত আঘাত করা হয়। হামলায় তিনজনের মাথা ফেটে গেছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে কিল-ঘুষি মারা হয়।
  • ছিনতাইয়ের অভিযোগ: হামলাকারীরা তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এই হামলার বিষয়ে স্থানীয় ছাত্রদল বা যুবদল নেতাদের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল সিদ্দিক দানবাক্স বিতর্ক: চুরির অপবাদ নাকি কিশোর গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি? আসল সত্য উন্মোচন

ভাইরাল সিদ্দিক দানবাক্স বিতর্ক: চুরির অপবাদ নাকি কিশোর গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি? আসল সত্য উন্মোচন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দানবাক্স থেকে টাকা তোলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ‘ভাইরাল সিদ্দিক’ খ্যাত মাওলানা খান মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক। প্রথম দিকে অনেকে এটিকে চুরি হিসেবে দাবি করলেও, ঘটনাটির পেছনে ভিন্ন সত্য জানা গেছে।

মূলত ওই দানবাক্সগুলো আবুবকর সিদ্দিকের নিজস্ব নিবন্ধিত সংগঠন ‘নিউ মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর। ২০০৮ সালে গঠিত এই সংগঠনের ঢাকা শহরে ১৫-১৬টি দানবাক্স রয়েছে, যার অর্থ নওমুসলিমদের সহায়তায় ব্যয় করা হয়।
ঘটনার আসল বিবরণ:
  • সময় ও স্থান: গত ১৯ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহের অংশ হিসেবে তিনি দানবাক্স খুলছিলেন।
  • আটকে রেখে নির্যাতন: ওই সময় স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে চোর আখ্যা দিয়ে ভিডিও ধারণ করে এবং দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে।
  • চাঁদা দাবি ও মামলা: তার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে বিকাশের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা দিলে তিনি মুক্তি পান। এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিদ্দিক দাবি করেন, এটি কোনো চুরির ঘটনা নয়, বরং তার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে কিশোর গ্যাং এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

Saturday, May 16, 2026

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, জুনের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, জুনের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের প্রিন্সকোর্ট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।
সহধর্মিণী জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি দেশে ফিরতে পারেন।
শনিবার (১৭ মে) হাসপাতালে প্রবাসী সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাতে জানা যায়, চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস। তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থাকে আগের তুলনায় অনেক স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন।
আফরোজা আব্বাস বলেন, “চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনর্বাসন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।” বর্তমানে তিনি হুইলচেয়ারে করে কিছু সময় হাঁটাহাঁটিও করছেন।মালয়েশিয়া প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নিয়মিত তার খোঁজ নিচ্ছেন এবং হাসপাতালে দেখা করছেন।
Daily Engage Bangladesh | আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক সংবাদ
মাদুরো গ্রেপ্তার ও ইরান অভিযান শেষে দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’

মাদুরো গ্রেপ্তার ও ইরান অভিযান শেষে দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’


মাদুরো গ্রেপ্তার ও ইরান অভিযান শেষে দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার অভিযান এবং ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর প্রায় এক বছরের দীর্ঘ মিশন শেষে অবশেষে দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক ও বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।
শনিবার (১৬ মে) জাহাজটি ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাঁটিতে নোঙর করবে।ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এটিই হতে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে কোনো রণতরীর সবচেয়ে দীর্ঘ মোতায়েন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈদেশিক সামরিক লক্ষ্য পূরণে এই রণতরীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।দীর্ঘ এই সময়জুড়ে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটিয়েছেন। কারণ তাদের সন্তান-স্বজনরা এমন সব অভিযানে অংশ নিয়েছেন যা প্রতিনিয়ত বিশ্ব সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।
রণতরীতে এভিয়েশন ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত এক নারী সেনার বাবা আমিনি ওসিয়াস সিএনএনকে বলেন, “এখন আমি কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি এবং স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারব।” তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে বাইরে খেতে যাওয়া এবং তার অভিযানের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার গল্প শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।এর আগে মার্চ মাসে জাহাজের লন্ড্রি এলাকায় আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কার করতে ক্রুদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। প্রায় ৬০০ নাবিক সাময়িকভাবে থাকার জায়গা হারান, তবে সৌভাগ্যবশত কেউ গুরুতর আহত হননি। এছাড়া এর কয়েক মাস আগে জাহাজের টয়লেট ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বারবার সমস্যা দেখা দেয়, যার কারণে জরুরি মেরামতের জন্য বন্দরে ভিড়তে হয়।১৩ বিলিয়ন ডলারের এই অত্যাধুনিক রণতরীটি ভেনেজুয়েলা ও ইরান অভিযানে অপরিহার্য ছিল। মাদুরো গ্রেপ্তার অভিযানে এখান থেকেই যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণ করা হয়। ইরান যুদ্ধেও একের পর এক বিমান হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি কাজ করেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ২৬ বছরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ব্রেন্ট স্যাডলার বলেন, এই জাহাজের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো তার ইলেকট্রনিক ক্যাটাপাল্ট সিস্টেম। এটি ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে বড় যুদ্ধবিমান পর্যন্ত সবকিছু উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। বর্তমানে মোতায়েন অন্য ১০টি রণতরীর এই সক্ষমতা নেই।
গত বছরের জুনে ভার্জিনিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও নরওয়ে অঞ্চলে অবস্থান নেয়। জানুয়ারিতে মাদুরো অভিযানের জন্য ক্যারিবীয় সাগরে পাঠানো হয়। পরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়। চলতি মাসের শুরুতে ভূমধ্যসাগর হয়ে দেশের পথে ফিরে।


Engage Bangladesh | সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খবর

Friday, May 15, 2026

সিনেমার চোখে ইতিহাসের সম্মান: ঢাকায় রাশিয়ান হাউসের ‘ফ্রেমস অব মেমরি’ চলচ্চিত্র উৎসব

সিনেমার চোখে ইতিহাসের সম্মান: ঢাকায় রাশিয়ান হাউসের ‘ফ্রেমস অব মেমরি’ চলচ্চিত্র উৎসব


ডেইলি এনগেজ বাংলাদেশঢাকা, ১৪ মে ২০২৬ — রাশিয়ান হাউস ইন বাংলাদেশ বুধবার রাশিয়ান ভিক্টরি ডে’র ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব ‘ফ্রেমস অব মেমরি: ফ্রম মস্কো টু বাংলাদেশ’ উদ্বোধন করেছে।
রাজধানীর রাশিয়ান হাউসে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুশ ভাষার শিক্ষার্থী, বৃত্তি প্রার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক সংস্থার সদস্যসহ উৎসাহী দর্শকদের উপস্থিতিতে মিলনমেলা পরিণত হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, চলচ্চিত্রের শক্তিশালী ভাষায় ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সংলাপ বৃদ্ধিই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য।উদ্বোধনী বক্তব্যে আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ হারানো লক্ষ লক্ষ মানুষের স্মৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি যুদ্ধের মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়ের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, চলচ্চিত্র কীভাবে ঐতিহাসিক সত্যকে সংরক্ষণ করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শান্তি ও মানবতার প্রতি অনুপ্রাণিত করতে পারে।
বক্তব্যের পর দর্শকদের জন্য উপস্থাপন করা হয় সোভিয়েত চলচ্চিত্রের ক্লাসিক ‘ব্যালাড অব অ্যা সোলজার’-এর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। এরপর পূর্ণাঙ্গ সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। যুদ্ধের ধ্বংসলীলার মধ্যেও সাহস, ত্যাগ ও মানুষের অদম্য চেতনার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়।উৎসবটি আগামী ২১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে সোভিয়েত ও যুদ্ধোত্তর সময়ের নির্বাচিত সেরা চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে, যা দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে ইতিহাস ও শিল্পের অনন্য ‘ফ্রেম’।আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ উৎসব বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ব চলচ্চিত্র এবং যৌথ ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করবে।‘ফ্রেমস অব মেমরি’ চলচ্চিত্র উৎসব সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এটি ঢাকার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এ সপ্তাহের একটি উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।