সর্বশেষ

Friday, May 15, 2026

সিনেমার চোখে ইতিহাসের সম্মান: ঢাকায় রাশিয়ান হাউসের ‘ফ্রেমস অব মেমরি’ চলচ্চিত্র উৎসব

সিনেমার চোখে ইতিহাসের সম্মান: ঢাকায় রাশিয়ান হাউসের ‘ফ্রেমস অব মেমরি’ চলচ্চিত্র উৎসব


ডেইলি এনগেজ বাংলাদেশঢাকা, ১৪ মে ২০২৬ — রাশিয়ান হাউস ইন বাংলাদেশ বুধবার রাশিয়ান ভিক্টরি ডে’র ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব ‘ফ্রেমস অব মেমরি: ফ্রম মস্কো টু বাংলাদেশ’ উদ্বোধন করেছে।
রাজধানীর রাশিয়ান হাউসে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুশ ভাষার শিক্ষার্থী, বৃত্তি প্রার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক সংস্থার সদস্যসহ উৎসাহী দর্শকদের উপস্থিতিতে মিলনমেলা পরিণত হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, চলচ্চিত্রের শক্তিশালী ভাষায় ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সংলাপ বৃদ্ধিই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য।উদ্বোধনী বক্তব্যে আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ হারানো লক্ষ লক্ষ মানুষের স্মৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি যুদ্ধের মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়ের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, চলচ্চিত্র কীভাবে ঐতিহাসিক সত্যকে সংরক্ষণ করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শান্তি ও মানবতার প্রতি অনুপ্রাণিত করতে পারে।বক্তব্যের পর দর্শকদের জন্য উপস্থাপন করা হয় সোভিয়েত চলচ্চিত্রের ক্লাসিক ‘ব্যালাড অব অ্যা সোলজার’-এর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। এরপর পূর্ণাঙ্গ সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। যুদ্ধের ধ্বংসলীলার মধ্যেও সাহস, ত্যাগ ও মানুষের অদম্য চেতনার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়।উৎসবটি আগামী ২১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে সোভিয়েত ও যুদ্ধোত্তর সময়ের নির্বাচিত সেরা চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে, যা দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে ইতিহাস ও শিল্পের অনন্য ‘ফ্রেম’।আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ উৎসব বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ব চলচ্চিত্র এবং যৌথ ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করবে।‘ফ্রেমস অব মেমরি’ চলচ্চিত্র উৎসব সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এটি ঢাকার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এ সপ্তাহের একটি উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Friday, February 27, 2026

এমআইএসটি-তে আরটি প্রামাণ্যচিত্র “NICA. Made in Russia” প্রদর্শিত: বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

এমআইএসটি-তে আরটি প্রামাণ্যচিত্র “NICA. Made in Russia” প্রদর্শিত: বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত



ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ — বাংলাদেশ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-তে ২৫ ফেব্রুয়ারি আরটি প্রযোজিত প্রামাণ্যচিত্র “NICA. Made in Russia” এর একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাশিয়ান হাউস, ঢাকার সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতায় আগ্রহী শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রামাণ্যচিত্রটি রাশিয়ার দুবনায় অবস্থিত জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (JINR)-এ বাস্তবায়িত যুগান্তকারী NICA (Nuclotron-based Ion Collider fAcility) প্রকল্পের ওপর আলোকপাত করে। এতে উচ্চ-শক্তির পদার্থবিজ্ঞানে রাশিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে এবং কণা পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম উচ্চাভিলাষী গবেষণা অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বের বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টা প্রদর্শিত হয়েছে। NICA প্রকল্প মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থার পুনর্নির্মাণ করে মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো, মৌলিক গবেষণার প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা লাভ করেন। দর্শকরা বিশেষ করে NICA-এর বৈশ্বিক চরিত্র এবং তরুণ গবেষকদের জন্য এর উন্মুক্ত সুযোগ-সম্ভাবনায় আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রদর্শনী শেষে এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন, রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং বাংলাদেশ-রাশিয়া একাডেমিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উন্নত গবেষণা ও বিজ্ঞানী সংলাপে আগ্রহ জাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। রাশিয়ান সায়েন্স ডে উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী আয়োজিত এই ধরনের অনুষ্ঠান বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের বিজ্ঞান কূটনীতির নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।

Monday, February 23, 2026

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় শক্তিশালী গল্প বলার এক বিকেল: “কল সাইন ‘বুখাঙ্কা’” প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় শক্তিশালী গল্প বলার এক বিকেল: “কল সাইন ‘বুখাঙ্কা’” প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী



রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় শক্তিশালী গল্প বলার এক বিকেল: “কল সাইন ‘বুখাঙ্কা’” প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনীঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার ধানমন্ডিস্থ সিনেমা হলে আজ RT Documentary চ্যানেল প্রযোজিত প্রামাণ্যচিত্র “Call Sign ‘Bukhanka’” (রুশ ভাষায় Позывной «Буханка»)–এর একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ৪র্থ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব RT.Doc: Time of Our Heroes-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রপ্রেমী, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রের প্রতিনিধি এবং রুশ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো হল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এবং দর্শকদের তীব্র মনোযোগ দেখে স্পষ্ট হয় যে, বাস্তবভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্রের প্রতি ঢাকার দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
চলচ্চিত্রটি কিংবদন্তি UAZ-452 যানবাহনকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যা আকৃতির কারণে ‘বুখাঙ্কা’ (রুটির মতো দেখতে বলে ‘লোফ’ নামেও পরিচিত) নামে খ্যাত। এই সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য যানটি যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের পরিবহন, মানবিক সাহায্য বিতরণ এবং কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষকে একত্রিত করার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সৈনিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গল্পের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি সাহস, কর্তব্যবোধ, ব্যক্তিগত দায়িত্ব, আনুগত্য এবং মানবতার মতো সর্বজনীন মূল্যবোধকে গভীরভাবে তুলে ধরে। এই মূল্যবোধগুলো রাশিয়ান ও বাংলাদেশী জনগণের মধ্যে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে।
প্রদর্শনী চলাকালীন দর্শকরা গভীরভাবে আকৃষ্ট হন এবং চলচ্চিত্রের থিম নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন। এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিল্প ও সিনেমার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা সকল অতিথি, অংশীদার এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও এমন চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংলাপ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

Sunday, February 22, 2026

যতটা ভেবেছি তার চেয়েও বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে দেশের প্রতিষ্ঠান : নজরুল ইসলাম খান

যতটা ভেবেছি তার চেয়েও বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে দেশের প্রতিষ্ঠান : নজরুল ইসলাম খান



আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সাড়ে ১৫ বছরের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈ‌তিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। যতখানি আমরা ভেবেছি, এটা তার চেয়েও বেশি।‌ দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি, অনাচার, অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে এই সর্বনাশটা হয়েছে।

শ‌নিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ চল‌চ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়ো‌জিত অনুষ্ঠানে প্রধান ‌অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান এ কথা বলেন। নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযো‌গিতা-২০২৬ এর বিজয়ী দলগুলোর সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈ‌তিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, এ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। যতখানি আমরা ভেবেছি, এটা তার চেয়েও বেশি।‌ দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি, অনাচার, অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে এই সর্বনাশটা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে কাজ করা ছাড়া উপায় নেই। এটা অতিক্রম করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো পথ নাই। এগিয়ে যেতেই হবে আমাদের।’ এ সময় সবাইকে নিজের অবস্থান থেকে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।


সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিলো অনেক বেশি। এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন ছিলো না। নাগরিক মর্যাদা পুন:প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। রাষ্ট্রের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। জাতিকে বিগত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত কলঙ্কিত নির্বাচনের কালিমা থেকে মুক্ত করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে মানুষ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি, তাঁর মন্ত্রীপরিষদ ও উপদেষ্টারা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বহুমুখী কর্মসূচীর বার্তা দিচ্ছেন। যা আমাদের আশাবাদী করছে। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবেন।


অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন—স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. আফরোজা বেগম এবং অধ্যাপক সিক্তা দাস।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রথম রানারআপ ইডেন মহিলা কলেজ এবং দ্বিতীয় রানারআপ তেজগাঁও কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিক মাসনুন নাবিলাহ আলম।

পুরস্কার বিতরণে চ্যাম্পিয়ন দল পান ২ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ১ লাখ টাকা। এছাড়া সকল বিজয়ী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তাকে ৫০ হাজার টাকা, ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।


Wednesday, February 4, 2026

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার অ্যাসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার অ্যাসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ



জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠনটির ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়াকে সভাপতি এবং শহীদ ইয়ামিনের পিতা মহি উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

বিবার (১ জানুয়ারি) কারওয়ান বাজারের ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ও পরিচিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ সংসদ এবং গণভোট নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে আমার দেশ’র নির্বাহী সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ থেকে ফ্যাসিস্ট পালিয়েছে; আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি; দেশ আবার গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই শহীদদের স্মৃতি কখনো নষ্ট হয়ে যাক সেটা চাইবো না; আমরা চাইবো শহীদদের স্মৃতি ইতিহাস হয়ে যুগ যুগ ধরে গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রেরণা উৎস হিসেবে কাজ করবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও শহীদ পরিবারের স্বপ্ন ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ২১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন শহীদ মুগ্ধের বাবা সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মীর মোস্তাফিজুর রহমান।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহসভাপতি গোলাম রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক গাউছ উল্লাহ, অর্থ সম্পাদক গাজীউর রহমান, সহ-অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, সহ- প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক কাজী লুলুল মাধমিন, সহ দপ্তর সম্পাদক সামমুজ্জামান, তথ্য সম্পাদক রুফাইদা ইসলাম চাঁদিনী, সহ- তথ্য সম্পাদক আমান উল্লাহ শহীদ, আইন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সহ-আইন সম্পাদক জাকির হোসেন পাটোয়ারী, স্বাস্থ্য সম্পাদক সাইফ আহমেদ খান, নির্বাহী সদস্য আইনুন নাহার, মরিয়ম খানম, আবুল হোসেন, ও আবুল খায়ের।
জাতীয় নির্বাচনের আগেই শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সমাবেশের ঘোষণা দেন সভাপতি। অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয় রাজধানীর কাওরান বাজারের ৯৯, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে গড়ে তোলা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক উত্তরণে আওয়ামী লীগ বড় বাধা: ড. মাহবুব উল্লাহ

গণতান্ত্রিক উত্তরণে আওয়ামী লীগ বড় বাধা: ড. মাহবুব উল্লাহ



বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মতো এত বড় আত্মত্যাগের সুফল আমরা আজও পাইনি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী গণতন্ত্র ছিল তাদেরই নির্দেশিত। যে কারণে পরবর্তীতে একদলীয় কলঙ্কিত শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল। গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ বড় বাধা। তাদের প্রতিহিংসার কারণে নির্বাচনী পরিবেশ ও দেশের শান্তি বিনষ্টের ঝুঁকি রয়েছে। ক্ষমতার মোহে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক দুবৃর্ত্তে পরিণত হয়েছিল।’

আজ শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির অয়োজনে নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যে সব সহিংস ঘটনা ঘটছে তার পেছনেও পতিত স্বৈরাচার ও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের মদদ আছে। বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি হয়নি, যে কারণে কোনো দেশের দূতাবাস তাদের কর্মীদের নিজ দেশে ফেরত নিতে হবে। ভারত আমাদের দেশের এই পরিবর্তন ও নির্বাচন মেনে নিতে পারছে না বলেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

তিনি বলেনস, ‘আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু গণতন্ত্রচর্চা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যাত্রা শুরু হবে। তবে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আরও বহুদূর যেতে হবে। কেবল নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হবে না। এর জন্য রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশকে সম্পূর্ণ সন্তোষজনক বলা যাচ্ছে না, তবে সহিংস ঘটনার যাতে পুণরাবৃত্তি না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

 সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এবারের নির্বাচন ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন। জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদের রক্তের প্রতিশোধের নির্বাচন। ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। সমাজ বদলের নির্বাচন। অন্যায়—অত্যাচার, গুম—খুন, হত্যা, মামলা—হামলা, জেল—জুলুমের বিরুদ্ধে নির্বাচন। রাজনীতিতে মতো পার্থক্য থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে, তা যাতে প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। আসন্ন নির্বাচনী প্রচার—প্রচারণায় অতিমাত্রায় বিদ্বেষ, কুৎসা, আক্রোশ রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এই সুযোগে গণহত্যাকারী পালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠী নির্বাচনকে বিতর্কিত ও ভন্ডুলের চেষ্টা করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা আমাদের রাজনীতির একটি কালো অধ্যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যাতে সহিংস ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে এখন থেকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিহিংসার আগুন খুবই ভয়াবহ। যা মানুষকে অত্যাচারী করে তোলে। আমরা আশাকরি আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটবে। যারাই জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসবে তারা বিরোধী মতকে সাথে নিয়ে হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থার ক্ষতগুলো দূর করবে। সুশাসন ও জবাবদিহি কায়েম করবে।’

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং রানার্সআপ হয় ইডেন মহিলা কলেজ। তৃতীয় স্থান অর্জন করে তেজগাঁও কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ইডেন মহিলা কলেজের দলনেতা মাসনুন নাবিলাহ আলম। চ্যাম্পিয়ন দলকে ২ লাখ টাকা, রানার্সআপ দলকে দেড় লাখ টাকা ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে এক লাখ টাকাসহ ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ বক্তাকে ৫০ হাজার টাকা ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক কাজী হাফিজ, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল ও সাংবাদিক আফরিন জাহান। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল “আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান হবে।


Monday, January 26, 2026

দিল্লিতে বসে হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে কাজ হবেনা: বিচারপতি এম এ মতিন

দিল্লিতে বসে হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে কাজ হবেনা: বিচারপতি এম এ মতিন



সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে দেশের বিরুদ্ধে কথা বলছে, ষড়যন্ত্র করছে, সংবাদ সম্মেলন করছে, এতে কোনো কাজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন। 
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই প্রধান’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এ কথা বলেন তিনি। 


এম এ মতিন বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) এত শক্তিশালী হলে কেন পালিয়ে গেলেন। জনগণ তাকে চায়নি বলেই পালাতে হয়েছে। তার আমলে প্রহসন হয়েছে, নির্বাচন হয়নি বলেই বিপ্লব হয়েছে।

আবদুল মতিন বলেন, অসংখ্য মানুষের রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটিয়েও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। এখনো রক্তের দাগ শুকায়নি। আওয়ামী লীগ কেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না, সেটা তাদের বুঝতে হবে। তবে নাগরিক হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট দিতে পারবে। আওয়ামী লীগ তাদের অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলে, অনুতপ্ত হলে ক্ষমা পেতে পারে।

সাবেক এই বিচারপতি বলেন, প্রতিবেশী দেশ বলেছিল এদেশে কোনো সরকার বসতে পারবে না, কাজ করতে পারবে না। তারা শপথ নিয়েছিল এদেশের মানুষকে শান্তিতে রাখবে না। তাদের এ আশা দুরাশায় পরিণত হয়েছে। তাদের কোনো চাপেই কাজ হয়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ব্যর্থ হলে জনগণের দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষা ভেস্তে যাবে। নির্বাচন ভন্ডুল হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। জনগণ সচেতন হলে নির্বাচন বানচালে কোনো বাধা ও ষড়যন্ত্রে কাজ হবে না


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। 


সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে সাধারণ মানুষ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারা দলটি নির্বাচন ভন্ডুল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে । ১৪শ মানুষকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী পার্শ¦বর্তী দেশে অবস্থান করে দেশের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার করছে। সম্প্রতি এক অডিও ভাষণে তাকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে বলে মিথ্যা বয়ান দেন। যা মেটেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেজন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অন্যান্য দল ও প্রার্থীদের এমন কোন কার্যক্রম করা উচিত হবে না যাতে পতিত শক্তি নির্বাচন ভন্ডুল করার অপচেষ্টা করতে পারে। বিগত তিনটি নির্বাচন ছিলো চরম বিতর্কিত ও গণতন্ত্র হরণের নির্বাচন। ভোটাধিকার লুন্ঠনের নির্বাচন। জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলে জাতি কলঙ্কিত নির্বাচনের কালিমা থেকে মুক্তি পাবে। জনগণের শাসন ফিরে আসবে। বৈষম্যহীন ও সম্প্রতির রাষ্ট্র তৈরি হবে। সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা ফিরে আসবে। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এআই এর অপব্যবহারের মাধ্যমে গুজব ও ভুয়া ভিডিও অপতৎপরতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে।


“আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই প্রধান” শীর্ষক ছায়া সংসদে তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র বিতার্কিকগণ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সিনিয়ার সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক মশিউর রহমান খান, সাংবাদিক আফরিন জাহান ও সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।