মাদুরো গ্রেপ্তার ও ইরান অভিযান শেষে দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার অভিযান এবং ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর প্রায় এক বছরের দীর্ঘ মিশন শেষে অবশেষে দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক ও বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।
শনিবার (১৬ মে) জাহাজটি ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাঁটিতে নোঙর করবে।ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এটিই হতে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে কোনো রণতরীর সবচেয়ে দীর্ঘ মোতায়েন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈদেশিক সামরিক লক্ষ্য পূরণে এই রণতরীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।দীর্ঘ এই সময়জুড়ে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটিয়েছেন। কারণ তাদের সন্তান-স্বজনরা এমন সব অভিযানে অংশ নিয়েছেন যা প্রতিনিয়ত বিশ্ব সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।
রণতরীতে এভিয়েশন ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত এক নারী সেনার বাবা আমিনি ওসিয়াস সিএনএনকে বলেন, “এখন আমি কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি এবং স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারব।” তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে বাইরে খেতে যাওয়া এবং তার অভিযানের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার গল্প শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।এর আগে মার্চ মাসে জাহাজের লন্ড্রি এলাকায় আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কার করতে ক্রুদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। প্রায় ৬০০ নাবিক সাময়িকভাবে থাকার জায়গা হারান, তবে সৌভাগ্যবশত কেউ গুরুতর আহত হননি। এছাড়া এর কয়েক মাস আগে জাহাজের টয়লেট ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বারবার সমস্যা দেখা দেয়, যার কারণে জরুরি মেরামতের জন্য বন্দরে ভিড়তে হয়।১৩ বিলিয়ন ডলারের এই অত্যাধুনিক রণতরীটি ভেনেজুয়েলা ও ইরান অভিযানে অপরিহার্য ছিল। মাদুরো গ্রেপ্তার অভিযানে এখান থেকেই যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণ করা হয়। ইরান যুদ্ধেও একের পর এক বিমান হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি কাজ করেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ২৬ বছরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ব্রেন্ট স্যাডলার বলেন, এই জাহাজের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো তার ইলেকট্রনিক ক্যাটাপাল্ট সিস্টেম। এটি ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে বড় যুদ্ধবিমান পর্যন্ত সবকিছু উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। বর্তমানে মোতায়েন অন্য ১০টি রণতরীর এই সক্ষমতা নেই।
গত বছরের জুনে ভার্জিনিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও নরওয়ে অঞ্চলে অবস্থান নেয়। জানুয়ারিতে মাদুরো অভিযানের জন্য ক্যারিবীয় সাগরে পাঠানো হয়। পরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়। চলতি মাসের শুরুতে ভূমধ্যসাগর হয়ে দেশের পথে ফিরে।
Engage Bangladesh | সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খবর
.jpg)