আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ৩১ মে, ২০২৫ : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কৌশলগত কিয়াউকফিউ বন্দরের কাছে আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ে জান্তা বাহিনীর এক শীর্ষ জেনারেল নিহত হয়েছেন। চীনা বিনিয়োগ কেন্দ্র এই বন্দর শহরটি দখলের লক্ষ্যে আরাকান আর্মি একাধিক জান্তা অবস্থান দখলে নিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কিয়াউকফিউ-রাম্রি সড়কের পাশে পিয়াইন সি কাই গ্রামের কাছে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই এলাকায় জান্তা বাহিনীর একটি সদর দপ্তর আরাকান আর্মি ঘিরে ফেলেছে। এছাড়া, চীনের তেল ও গ্যাস টার্মিনালের কাছাকাছি লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৬ মে আরাকান আর্মির স্নাইপার হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়াও মিও আউং এবং একজন সেনা ক্যাপ্টেন নিহত হন। ১১ নম্বর ডিভিশনের কৌশলবিদ ৪৫ বছর বয়সী এই জেনারেলের মরদেহ বিশেষ বিমানে ইয়াঙ্গুনে পাঠানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুনের মিংগালাডন সামরিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
জান্তা সরকার কিয়াউকফিউ রক্ষায় স্থল, নৌ, এবং বিমান বাহিনী একযোগে ব্যবহার করছে। তবে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরাবতীর বরাতে জানা গেছে, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পে নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ড্রোন হামলার মাধ্যমে জান্তা বাহিনীকে সহায়তা করছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জান্তা সরকার একটি আইন প্রণয়ন করে, যাতে চীনা নিরাপত্তা বাহিনীকে মিয়ানমারে অস্ত্র বহন ও তাদের বিনিয়োগ রক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে কিয়াউকফিউতে চীনা কর্মীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন এখানে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে, যা ভারত মহাসাগরে বেইজিংয়ের সরাসরি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, লড়াই শহরের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় অনেক জান্তা প্রশাসক কিয়াউকফিউ থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, চীনের কৌশলগত তেল ও গ্যাস পাইপলাইন কিয়াউকফিউ থেকে শুরু হয়ে ইউনান প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে আরাকান আর্মি জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তারা রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি এবং দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতোয়া অঞ্চল দখল করেছে। বর্তমানে তারা রাজ্যের রাজধানী সিত্তুই দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাল্টা জবাবে জান্তা বাহিনী আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে বহু বেসামরিক মানুষ হত্যা করছে। তবে এ বছর রাখাইন ছাড়িয়ে মাগওয়ে, বাগো এবং আয়েয়ারওয়াডি অঞ্চলে আরাকান আর্মি তাদের প্রভাব বিস্তার করেছে।
এ.আই/এম.আর
