Sunday, May 25, 2025

ইশরাক হোসেনের শপথের দাবিতে অবরুদ্ধ নগর ভবন, অনড় সমর্থকরা

ঢাকা, ২৫ মে, ২০২৫: বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ পড়িয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে টানা দশম দিনের মতো কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ডিএসসিসির কর্মচারী ইউনিয়ন এবং ইশরাকের সমর্থকরা। এই আন্দোলনের ফলে নগর ভবনের সকল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার কারণে নগরবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আজ রোববার সকাল ১০টার পর থেকে নগর ভবন প্রাঙ্গণে কর্মচারী ও সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করেন এবং ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, “মেয়র ছাড়া নগর ভবন চলতে পারে না।” মুনীর হোসেন নামে এক সমর্থক বলেন, “ইশরাক হোসেন মেয়রের চেয়ারে না বসা পর্যন্ত আমরা বাড়ি ফিরব না। আন্দোলন চলবে।”

নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনকারী আবদুল কাইয়ুম বলেন, “আমাদের আন্দোলনের কারণে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে না। যারা ইশরাককে শপথ পড়াতে দায়িত্ব পালন করছে না, তারাই এর জন্য দায়ী।” ডিএসসিসির কর্মচারী আফরোজা হক বলেন, “আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। ইশরাক হোসেনকে ঢাকাবাসী মেয়র হিসেবে চায়। শপথ পড়ানো হলেই আমরা কাজে ফিরব।”

নগর ভবনের প্রধান প্রবেশপথসহ অন্যান্য প্রবেশপথে তালা ঝুলছে। পাশের পকেট গেট দিয়ে কিছু মানুষ প্রবেশ করলেও সেবাপ্রার্থীরা ফিরে যাচ্ছেন। ওয়ারী থেকে আসা সালাহউদ্দিন বলেন, “মেয়ের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য কয়েকদিন ধরে আসছি, কিন্তু অফিস বন্ধ থাকায় কাজ করতে পারছি না।”
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস বিজয়ী ঘোষিত হন। ইশরাক হোসেন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ৩ মার্চ, ২০২০-এ মামলা করেন। গত ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ফজলে নূর তাপসের বিজয় বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন। ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে। তবে, ১৪ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ শপথে বাধা চেয়ে রিট দায়ের করেন। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এই রিট খারিজ করে দেয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, “আদালতের রায় অনুযায়ী ২৬ মে’র মধ্যে শপথের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা আলোচনা করছি, শিগগির সমাধান হবে।” তিনি জানান, আগামীকাল সোমবার শপথ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.