Wednesday, June 4, 2025

ঈদে অনুদান চেয়ে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ চিঠি নিয়ে দিনাজপুরে তোলপাড়

দিনাজপুর, ০৪ জুন ২০২৫: ঈদ উপলক্ষে আর্থিক অনুদান চেয়ে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছে ‘ওয়ারিয়স অব জুলাই’ নামের একটি সংগঠন। এই আবেদনপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংগঠনটির দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. ফরহাদ হোসেন ও সদস্যসচিব মো. মোস্তফা শাকিলের স্বাক্ষর ও সীল সম্বলিত আবেদনপত্রে বলা হয়, “আমরা দিনাজপুর সদর উপজেলার জুলাই যোদ্ধাগণ আপনার নিকট আবেদন করিতেছি যে, আমাদের ঈদ ভালোভাবে যেন করিতে পারি তাহার জন্য আপনার নিকট আর্থিক অনুদান চাহিয়া আবেদন করিতেছি।” একই ধরনের আবেদন জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও জমা দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার ইউএনও মো. বোরহান উদ্দিন জানান, গত রোববার সংগঠনটির প্যাডে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বলেন, “আবেদন দিয়ে গেছে, কিন্তু আমার কোনো অনুদান দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তারাও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।”
এদিকে, আবেদনের বিষয়টি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আসায় দিনাজপুর জেলা শাখার প্রতিনিধিদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দীক ফেসবুকে প্রকাশিত এক নোটিশে জানান, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দিনাজপুর জেলার আহ্বায়ক একরামুল হক আবির জানান, “ওয়ারিয়স অব জুলাইয়ের দিনাজপুর জেলা শাখার কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। তারা ভুল করে আবেদন করেছিল এবং ভুল স্বীকার করেছে। এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।”
খানসামা উপজেলার ইউএনও কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “আমরা ফেসবুকে বিষয়টি দেখেছি। অফিসিয়ালি চিঠি এলে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, খানসামা উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য আজিজার রহমান অভিযোগ করেন, “ওয়ারিয়রস অব জুলাইয়ের নামে কিছু ব্যক্তি চাঁদাবাজিতে নেমেছে, যা আন্দোলনকারীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।”
এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংগঠনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.