Wednesday, June 25, 2025

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও নিয়োগ কমিটি নিয়ে তীব্র আলোচনা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ এবং সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেছে। বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের মতামত তুলে ধরে, যা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে বিএনপি একমত। তবে, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটির প্রস্তাবে তারা সম্মত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই দুটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, নিয়োগের ক্ষমতা অন্য কারও হাতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হবেন। আইনের মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠন করলে বিএনপির আপত্তি নেই।”
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে বলেন, নিয়োগ কমিটির বিষয়ে একমত হতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ কিছুটা বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনা করা যায় কিনা। তিনি বলেন, “বিএনপি যদি নিয়োগ কমিটি মেনে নেয়, তাহলে ১০ বছরের মেয়াদের বিষয়ে ছাড় দেওয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ প্রশ্ন তুলে বলেন, “নিয়োগ কমিটি কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত বলে আপনারা মনে করছেন?” তিনি আরও বলেন, “স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ সংবিধানবহির্ভূত হলে তাঁর ক্ষমতা কীভাবে কমে?” এর জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, “সার্চ কমিটি আইনের আওতায় থাকলে সংবিধানে নিয়োগ কমিটির প্রয়োজন হয় না।”
আলী রীয়াজ পাল্টা প্রশ্ন করেন, “ক্ষমতায় যাওয়া দল আইন পরিবর্তন করবে না, এর গ্যারান্টি কী?” সালাহউদ্দিন তখন বলেন, “সংবিধান পরিবর্তন না হওয়ার নিশ্চয়তা কী?” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নিয়োগ প্রিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতায় গিয়ে আইন পরিবর্তনের ধারণা থাকলে ঐক্যতি প্রচেষ্টার অর্থই বা কী?”
আলী রীয়াজ সালাহউদ্দিনের উদ্দেশে বলেন, “এখানে একটি বিষয় অন্যটির ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগ কমিটি গঠন হলে প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছরের মেয়াদে আপনারা একমত নন।” সালাহউদ্দিন এতে সম্মতি জানান।
মজিবুর রহমান মঞ্জু পুনরায় বলেন, “অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা একটি বিপ্লব। তবে রাষ্ট্রের সব অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।”

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.