মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও ইরান ও ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে তা মানেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ইরান ইসরায়েলে দু’বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, এবং ইসরায়েল তেহরান ও এর আশপাশে বিমান হামলা অব্যাহত রাখে। এতে ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রতি, কারণ তাদের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাত্রা ছিল বেশি। তবে, তিনি কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এ লক্ষ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন:
যুদ্ধবিরতি: ইসরায়েলকে ‘লাইনে আনতে’ ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ
১. ইরান-ইসরায়েলকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা: ট্রাম্প মঙ্গলবার ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে নেদারল্যান্ডসের হেগে যাওয়ার আগে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমাদের দু’টো দেশ আছে— যারা দীর্ঘ সময় ধরে পরস্পরের সঙ্গে কঠিন লড়াই করছে এবং তারা জানে না তারা কী করে বেড়াচ্ছে।” তিনি উভয় দেশের প্রতি তীব্র ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
২. ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ধমক: যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে ধমক দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ইসরায়েলের প্রতি খুশি নই। যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত বন্ধ করতে এবং যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে নিতে ইসরায়েলকে ১২ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি।”
৩. ট্রুথ সোশ্যালে কঠোর বার্তা: ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইসরায়েলের উদ্দেশে বলেন, “ইসরায়েল, বোমা ফেলা একদম বন্ধ করুন। এটা বন্ধ না করলে তা হবে যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন। এখনই নিজেদের পাইলটদের ফিরিয়ে আনুন।” এর কিছুক্ষণ পর তিনি আরেকটি পোস্টে জানান, ইসরায়েল ইরানে আর হামলা চালাবে না।
৪. ইরানের পরমাণু প্রকল্পে আঘাত: ট্রাম্প জানান, মার্কিন সামরিক অভিযান ‘মিডনাইট হ্যামার’ ইরানের পরমাণু প্রকল্পে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। তিনি দাবি করেন, এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে ইরান আর কখনো তাদের পরমাণু প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে না। তিনি বলেন, “বি-২ পাইলটরা তাদের দায়িত্ব চমৎকারভাবে পালন করেছে। এমন নিখুঁত কাজ কেউ ভাবতেও পারেনি।”
এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ট্রাম্প ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে, উভয় দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা এখনো পরিস্থিতির জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।
এ.আই/এম.আর
