চীন শুক্রবার (২৭ জুন, ২০২৫) ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ রপ্তানির অনুমোদন দেবে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণা সাম্প্রতিক সময়ের বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিএনএন-এর খবরে বলা হয়, এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউস জানায়, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিরল খনিজ পদার্থগুলো মোবাইল ফোন, কম্পিউটার থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমানের মতো উচ্চ প্রযুক্তির পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই খনিজ নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছিল। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে পড়েছিল।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “যেসব রপ্তানি আবেদন আইনি শর্ত পূরণ করবে, তাদের অনুমোদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও চীনের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকও নিশ্চিত করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি চলতি মাসের শুরুতে লন্ডনে সম্পন্ন হয়, যা বাস্তবায়নের জন্য ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াকরণের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে। গত মাসে জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চ শুল্ক কমানোর বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় উত্তেজনা বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে যে, চীন বিরল খনিজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র চিপ, সফটওয়্যার, ইথেন এবং জেট ইঞ্জিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের হুমকি দেয়।
জুন মাসে লন্ডনে দুই দেশের কর্মকর্তারা আবারও আলোচনায় বসেন। এই আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, উভয়পক্ষ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, চীনা শিক্ষার্থীদের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াবে, ভুল বোঝাবুঝি কমাবে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করবে।
এ.আই/এম.আর
