Sunday, June 29, 2025

চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে অচলাবস্থা

চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তাদের চলমান কলমবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এর ফলে বন্দরে প্রায় ৮-১০ হাজার অতিরিক্ত কনটেইনার জমে গেছে, যা বন্দরের ইতিহাসে রপ্তানি না হওয়া কনটেইনারের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

কোরবানির ঈদের টানা ছুটির পর কনটেইনার ডেলিভারির গতি কিছুটা বাড়লেও গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কাস্টমস কর্মকর্তারা আবারও কর্মবিরতি শুরু করেন। শনি ও রোববার (২৮-২৯ জুন) তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করেন, যার ফলে শুল্কায়ন ও ডেলিভারি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই দিনে প্রায় ৭,০০০ কনটেইনার রপ্তানি বন্ধ থাকে। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো সমিতির (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, “ডিপোতে রপ্তানি পণ্যের স্তূপ বাড়ছে, কিন্তু কাস্টমস কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে শুল্কায়ন হচ্ছে না। ফলে কোনো কনটেইনার বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না।” রোববার তিনটি জাহাজ—এএস সিসিলিয়া, এক্সপ্রেস নিলওয়ালা ও হং ডা জিন-৬৮—রপ্তানি কনটেইনার নিয়ে বন্দর ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু শুল্কায়ন না হওয়ায় এগুলো অলস পড়ে আছে। তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা এই অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, “কাস্টমসের কর্মসূচির কারণে জুলাইয়ে লোন পরিশোধ করতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।” শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, “এই আন্দোলন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং বন্দরে কনটেইনার জট বাড়াচ্ছে।” চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, কাস্টমসের কর্মসূচির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র সাইদুল ইসলাম বলেন, “এনবিআরের কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তাদের সমর্থন রয়েছে, তাই কোনো কাজ হচ্ছে না।” সররকার রবিবার (২৯ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এনবিআরের আওতাধীন কাস্টমস সংশ্লিষ্ট সব চাকরিকে ‘অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তারা আন্দোলনকারীদের কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে, অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.