আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী, যার মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। গত বছরের তুলনায় এবার ৮১ হাজার ৮৮২ জন পরীক্ষার্থী কমেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে, করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ ও ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে এই পরীক্ষা নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা
করোনা ও ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন কার্যক্রম এবং মেডিকেল টিম সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, কেন্দ্রের সামনে জটলা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে।
প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে নতুন পদক্ষেপ
প্রশ্নফাঁস ও নকল ঠেকাতে শিক্ষা বোর্ড এক ডজনেরও বেশি নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রশ্নপত্র সঠিক সেট ও সংখ্যায় যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় থানার ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। অব্যবহৃত প্রশ্নপত্রের সেট খোলা যাবে না এবং অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে ফেরত পাঠাতে হবে। উত্তরপত্র পুলিশি পাহারায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের রদবদল ও ভেন্যু বাতিল
অনৈতিক সুবিধা বন্ধ করতে এবার ৯টি শিক্ষা বোর্ডের ২৯৫টি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে কুমিল্লা বোর্ড ১৫০টি এবং ঢাকা বোর্ড ৭০টি কেন্দ্র বাতিল করেছে। এ ছাড়া, পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, “অনৈতিক সুবিধার ‘বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এবারের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন হবে।”
পরীক্ষার সময়সূচি
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২৬ জুন থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১১ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ড ৩৩টি নির্দেশনা জারি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, ট্রেজারি অফিসার ও কেন্দ্র সচিবের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রশ্নপত্রের ট্রাঙ্ক উপজেলা সদরের বাইরে না রাখা।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “করোনা ও ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে এই পরীক্ষা নেওয়া চ্যালেঞ্জিং। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এ.আই/এম.আর
