Tuesday, June 17, 2025

ইরান ইসরায়েলে আরও ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে: উত্তেজনা বৃদ্ধি

ইরান তার সর্বশেষ হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার ভোরে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে ছোড়া হয়। ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে গত শনিবার (১৪ জুন) ইরান প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের প্রতিরক্ষা বলয়ের বাইরে খোলা এলাকায় পড়েছে।”
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের হার্জেলিয়ার গোয়েন্দা ভবন, মোসাদ এবং আমান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সদরদপ্তর লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। মোসাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত কেন্দ্রে বর্তমানে আগুন জ্বলছে বলে তারা জানিয়েছে। আইআরজিসি আরও বলেছে, এই নির্ভুল হামলাগুলো তাদের চলমান “ট্রু প্রমিজ-৩” অপারেশনের অংশ, যার উদ্দেশ্য ইরানের শহর ও অবকাঠামোতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে “সুনির্দিষ্ট ও বেদনাদায়ক আঘাত” প্রদান করা।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেলআবিব মহানগর এলাকায় কমপক্ষে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, যার মধ্যে একটি হার্জেলিয়ায় পড়েছে। এই উপকূলীয় শহরে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা অবকাঠামো অবস্থিত।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরান সরাসরি ইসরায়েলে ৩০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ। যদিও ইসরায়েল ও তার মিত্ররা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করে, এই ঘটনার পর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই চলমান সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে এবং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘর্ষ কমানোর আহ্বান জানালেও, উভয় দেশই এখনো আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.