Wednesday, June 18, 2025

ইরানের ‘পটকা ফাঁদে’ ধরাশায়ী ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইরানের কৌশলগত ‘পটকা ফাঁদে’ পড়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এই কৌশলে ডিকয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামরিক বাহিনী তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের এই দুর্দান্ত কৌশলের কারণে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এই ‘পটকা ফাঁদে’ ডিকয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা দেখতে ও আচরণে আসল ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই। এই ডিকয়গুলো শত্রুর প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার জন্য নিক্ষেপ করা হয়। ধাতব পটকা বা ডিকয় থেকে তাপ নির্গত হয়, যা ইসরায়েলের আয়রন ডোমের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আসল ক্ষেপণাস্ত্র বলে ভুল করে। ফলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষিপ্ত হয়ে এই ডিকয়গুলোকে ধ্বংস করতে যায়, আর এই সময়ে আসল ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, দ্রুতগতিতে লক্ষ্যে আঘাত হানে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়রন ডোম থেকে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর তা পুনরায় লোড করতে ১০ থেকে ১১ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যেই ইসরায়েলের ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে, ইরান ডিকয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আয়রন ডোমের মজুত খালি করে দেয় এবং পরে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফলভাবে আক্রমণ চালায়।
ইরানের এই কৌশল ইসরায়েলের তিন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা—আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং অ্যারো সিস্টেম—এর দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে। চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.