Tuesday, June 24, 2025

ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের শান্তির বার্তা: যুদ্ধ নয়, তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো আপস নয়

ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তিপূর্ণ কূটনীতির পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন, তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো প্রকার নতি স্বীকার না করার কথাও জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূরনিউজের বরাত দিয়ে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন না করে, তবে ইরানও তা মেনে চলবে।

তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। আমাদের ওপর আক্রমণ না হলে আমরা কারও বিরুদ্ধে আগ্রাসী হবো না। তবে আলোচনার টেবিলে বসেও ইরানি জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দেব না।” তিনি সংলাপের পথ খোলা রাখার কথা বললেও দুর্বলতা প্রকাশ না করার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি ইরানের স্পষ্ট বার্তা—আগ্রাসন না হলে শান্তি সম্ভব, কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে কিছু আদায় করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে ইরান কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেন, “এই যুদ্ধবিরতি প্রমাণ করেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের শিং ভেঙে দিয়েছে।” এছাড়া, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি এক্স-এ এটিকে “ঐতিহাসিক বিজয়” আখ্যায়িত করেছেন।
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অটল থাকবে এবং কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের শান্তির বার্তা দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপর। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ খুলে দিয়েছে।

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.