Sunday, June 29, 2025

এনবিআরের আন্দোলন প্রত্যাহার: উপদেষ্টা কমিটি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় সমাধানের আশ্বাস

ঢাকা, ২৯ জুন ২০২৫: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের অচলাবস্থা নিরসনে উপদেষ্টা কমিটি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় সমাধানের আশ্বাসের ভিত্তিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’সহ সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২৯ জুন) রাতে রাজধানীর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাসান মাহমুদ তারেক।

হাসান মাহমুদ তারেক বলেন, “উপদেষ্টা কমিটি ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থে আমরা সকল আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে, আমাদের দাবি পূরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে আমরা নজর রাখব।”

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণ ও রাজস্ব খাতে অংশগ্রহণমূলক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এর অংশ হিসেবে গত ২৮ জুন থেকে দেশব্যাপী কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়, যা আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আহরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ব্যবসায়ী মহল থেকে এই অচলাবস্থার দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের মহাসচিব সেহেলা সিদ্দিকা বলেন, “আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান চাই। আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং জনগণের স্বার্থে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, আগামী ১ জুলাই একটি আলোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের রাজস্ব আহরণ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দ্রুত সেবা পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন।


Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.