Sunday, June 8, 2025

পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ার ৩ মাসে পাসপোর্ট ইস্যুতে বিস্ময়কর সাফল্য


০৮ জুন, ২০২৫ : পাসপোর্ট ইস্যুতে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক শর্ত তুলে দেওয়ার পর গত তিন মাসে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে পাসপোর্ট অধিদফতর। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৬টি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে, যা দেশের পাসপোর্ট ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

পাসপোর্ট অধিদফতর জানিয়েছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ায় আবেদনকারীদের ভোগান্তি এবং দালালদের দৌরাত্ম্য কমেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৩৮টি পাসপোর্ট আটকে ছিল, যা এখন আবেদনকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট ইস্যুর পরিসংখ্যান
  • মার্চ: ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩টি
  • এপ্রিল: ৩ লাখ ২২ হাজার ১৩০টি
  • মে: ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪২৪টি
পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ার বলেন, “ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় আবেদনকারীরা এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট পাচ্ছেন। এতে সময় ও ঝামেলা অনেক কমেছে।”
আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতা
সরেজমিনে পাসপোর্ট অধিদফতরে গিয়ে আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিলের ফলে তাদের ভোগান্তি কমেছে। একজন আবেদনকারী বলেন, “জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরও পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য ঝামেলা পোহাতে হতো। অনেক সময় টাকা দাবি করা হতো। এখন ১০ দিনের মধ্যে দালাল ছাড়াই পাসপোর্ট পেয়েছি, এটি সত্যিই স্বপ্নের মতো।”
বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের মতামত
কলামিস্ট ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. কুদরাত-ই খুদা বলেন, “পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ায় নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এখন সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিসের মাধ্যমে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।”
সরকারি সিদ্ধান্ত
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও অনলাইনে যাচাইকৃত জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যের ভিত্তিতে পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.