ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৫: সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে হত্যার ঘটনায় বিচারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার ঢাকার একটি আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
“এটা ঠিক হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মব সৃষ্টি করে মারা হচ্ছে। এই মব জাস্টিস করে মানুষ হত্যা করলো... ১৬২ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী...। এক মাঘে শীত যায় না, এর বিচার হবে। এর বিচার হবে না, এটা মনে করো না,” বলেন শাজাহান খান। তিনি দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নে হেসে বলেন, “আপনারা তো দেখছেনই। এক হাতে তালি বাজে না।” এরপর তিনি হাসিমুখে সাংবাদিকদের খোঁজখবর নেন।
সকাল ১০টার দিকে শাজাহান খান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে যাত্রাবাড়ী থানায় সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলায় আদালতে তোলা হয়। তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং মাথায় হেলমেট পরানো ছিল। কাঠগড়ায় ওঠার আগে হ্যান্ডকাফ ও হেলমেট খুলে দেওয়া হয়। শাজাহান ও আনিসুল একে অপরের সঙ্গে এবং তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন, তবে সালমান এফ রহমান পুরো সময় নীরব ছিলেন। তিনি সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও ফিতার স্যান্ডেল পরেছিলেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম পিবিআই’র পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে শাজাহান খান, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় শাজাহান খান পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিজ্ঞ পিপি সাহেব বিএনপির বড় নেতা। ভুতুড়ে মামলায় বারবার আমাদের রিমান্ডে নিচ্ছেন কেন?”
জবাবে ফারুকী বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তারা গণভবনে বৈঠক করেছেন। শাজাহান খান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তারা সাধারণ আসামি নন। তারা মিডিয়ায় বলেছেন, আন্দোলনকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না, দমন করা হবে।” তিনি আরও বলেন, মামলাগুলো ভুক্তভোগীদের আত্মীয়রা দায়ের করেছেন, এবং তার কাজ শুধু রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করা।
আদালত একই মামলায় আনিসুল হক ও সালমানের দুই দিন, রিটন উদ্দিন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর এক দিন এবং ২০২৩ সালের বিএনপি সমাবেশে হত্যাচেষ্টা মামলায় রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহাইলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মনুর আরেকটি মামলায় রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর হয়।
সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২১ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনের সময় তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং ২৪ আগস্ট মারা যান। মামলাটি ৩ জানুয়ারি দায়ের হয়, যেখানে শেখ হাসিনাসহ ৮১ জন আসামি। অন্য মামলাগুলোতে রিটন উদ্দিন ও রাসেলের মৃত্যু এবং ২০২৩ সালের একটি সমাবেশে হত্যাচেষ্টার ঘটনা জড়িত।
শাজাহান খানকে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় সমকাল পত্রিকার একটি ছবিতে তাকে দেখা যায়, যা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের চলমান আইনি লড়াইয়ের প্রতীক।
এ.আই/এম.আর
