Tuesday, June 24, 2025

কাতারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানালো মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ

গত সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫, ইরান কাতারের রাজধানী দোহার কাছে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘আল উদেইদ’ বিমানঘাঁটিতে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয় বলে জানিয়েছে তেহরান। এই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে দোহা শহর, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, জর্ডান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), লেবানন ও ফিলিস্তিন—তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

সৌদি আরব হামলাটিকে ‘অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা করেছে। এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি সদ্ভাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে রিয়াদ কাতারের সার্বভৌমত্বের পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করেছে এবং প্রয়োজনে কাতারকে প্রতিরক্ষায় সমর্থনের অঙ্গীকার করেছে।
জর্ডান হামলাটিকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. সুফিয়ান আল-কুদাহ বলেন, এ ধরনের উত্তেজনা অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তিনি সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করে আলোচনার আহ্বান জানান।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) হামলাটিকে কাতারের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী বলে নিন্দা করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাতারের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আঘাত তারা প্রত্যাখ্যান করে এবং কাতারের নিরাপত্তা রক্ষায় সব পদক্ষেপকে সমর্থন করে।
বাহরাইন ইরানের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে কাতারের আকাশসীমা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। সরকার কাতারের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
লেবানন’র প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হামলাটিকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ’ বলে নিন্দা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আক্রমণ আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সংঘর্ষ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করে। তিনি কাতারের পাশে থাকার ঘোষণা দেন।
ফিলিস্তিন হামলাটিকে কাতারের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা করে কাতারের সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তারা আঞ্চলিক শান্তির জন্য কূটনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানায়।
ইরানের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার সূচনা করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ঘটনা কেবল কাতার নয়, গোটা উপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.