Monday, June 30, 2025

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা: ভিডিও ভাইরাল, একজন গ্রেপ্তার

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় গ্রীনল্যান্ড লিমিটেড নামে একটি কারখানায় চুরির অপবাদে শ্রমিক মো. হৃদয়কে (১৯) রশি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিহত হৃদয় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শুকতার বাইদ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি গ্রীনল্যান্ড লিমিটেড কারখানায় মেকানিক্যাল মিস্ত্রি (অনকল) হিসেবে কাজ করতেন। ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, হৃদয়কে কারখানার অফিস কক্ষে জানালার সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্দয়ভাবে মারধর করা হচ্ছে। তার মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে, এবং অচেতন অবস্থায় তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করা হচ্ছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে হাসতে এবং মন্তব্য করতে শোনা যায় যে, “অনেক পেটানো হয়েছে, তারপরও মরে যায়নি।”

এ ঘটনায় হৃদয়ের বড় ভাই লিটন মিয়া গত শনিবার রাতে কোনাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে, পুলিশ রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে হাসান মাহমুদ ওরফে মিঠুন নামে এক শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে হৃদয় কারখানায় কাজে যান। ডিউটি শেষে বাসায় না ফেরায় তার ভাই লিটন ও মা কারখানায় যান। সেখানে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ দেখে তারা জানতে পারেন হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে। পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তারা মরদেহ শনাক্ত করেন।

লিটন মিয়া বলেন, “আমার ভাইকে কারখানার ভেতরে প্রচণ্ড মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।”

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন জানান, “হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর কারখানাটি দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, মঙ্গলবার (১ জুলাই) কারখানা খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.