Tuesday, July 29, 2025

ক্যারিবীয় দ্বীপে সম্পত্তি কিনলেই পাসপোর্ট, ১৫০টির বেশি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশ

পূর্ব ক্যারিবীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশ—অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস এবং সেন্ট লুসিয়া—ধনী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। এই দেশগুলোতে ন্যূনতম ২ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে সম্পত্তি কিনলে পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব এবং পাসপোর্ট। এই পাসপোর্টের মাধ্যমে শেনজেন অঞ্চল, যুক্তরাজ্যসহ ১৫০টির বেশি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা মিলবে।

এই দ্বীপরাষ্ট্রগুলো ধনীদের জন্য মূলধনি মুনাফা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ওপর কর অব্যাহতি এবং কিছু ক্ষেত্রে আয়কর ছাড়ের মতো সুবিধাও দিচ্ছে। অ্যান্টিগুয়ার লাক্সারি লোকেশনসের মালিক নাদিয়া ডাইসন জানান, সম্পত্তির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, এবং ৭০% ক্রেতা নাগরিকত্ব চাইছেন, যাদের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই চাহিদার বড় কারণ। “আমরা এর আগে কখনো এত বাড়ি বিক্রি করিনি,” বলেন নাদিয়া। তিনি আরও জানান, অ্যান্টিগুয়ার সিবিআই প্রোগ্রামে বসবাসের কোনো শর্ত না থাকলেও কিছু ক্রেতা স্থায়ীভাবে সেখানে চলে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানিয়েছে, ২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে সিবিআই প্রোগ্রামে আবেদন ১২% বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এর সবচেয়ে বড় অংশ, এরপর রয়েছেন ইউক্রেন, তুরস্ক, নাইজেরিয়া এবং চীনের নাগরিকরা। প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক ডমিনিক ভোলেক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা এবং ইহুদিবিদ্বেষের মতো সমস্যা মানুষকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় নাগরিকত্ব অনেকের কাছে অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচার বিমার মতো।” তবে এই প্রোগ্রাম বিতর্কমুক্ত নয়। সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনসের প্রধানমন্ত্রী রালফ গনসালভেস বলেন, “নাগরিকত্ব বিক্রির পণ্য হওয়া উচিত নয়।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই দেশগুলোর জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র কর ফাঁকি ও আর্থিক অপরাধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, তারা এই প্রোগ্রামগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। ক্যারিবীয় নেতারা তাদের প্রোগ্রামের পক্ষে কথা বলেছেন। ডোমিনিকার প্রধানমন্ত্রী রুজভেল্ট স্কেরিট বলেন, তাদের প্রোগ্রাম “নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ।” সেন্ট লুসিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ জে পিয়েরে বলেন, তারা কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলেন। অ্যান্টিগুয়ার প্রধানমন্ত্রী গ্যাস্টন ব্রাউন বলেন, এই প্রোগ্রাম গত এক দশকে দেশকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। সম্পত্তি কেনা ছাড়াও, জাতীয় উন্নয়ন তহবিলে অবদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। ডোমিনিকায় একক আবেদনকারীর জন্য এটি শুরু হয় ২ লাখ ডলার থেকে, এবং ডোমিনিকা ও সেন্ট কিটসে চারজনের পরিবারের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত। অ্যান্টিগুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার অনুদানের বিকল্পও রয়েছে। এই প্রোগ্রামগুলো দ্বীপপুঞ্জের জিডিপির ১০-৩০% অবদান রাখে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.