Thursday, July 31, 2025

নেতা–কর্মীদের সতর্ক করলেন মির্জা ফখরুল: ঐক্যবদ্ধ না থাকলে এক-এগারোর মতো ঘটনা ঘটবে

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, “আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকি, যদি সতর্ক না থাকি, তাহলে এক-এগারোর মতো ঘটনা ঘটা এখানে অস্বাভাবিক নয়।” বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিবাদ থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে আইনজীবীদের ভূমিকা: আলোচনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “খুব সতর্ক থাকতে হবে। আমরা একটি সূক্ষ্ম তারের ওপর দিয়ে যাচ্ছি। চারদিকে চোখ-কান খোলা রাখলে দেখবেন, অনেক ঘটনা ঘটছে যেগুলোর আলামত ভালো নয়। এদিকে লক্ষ রাখতে হবে।”

তিনি মন্তব্য করেন, দেশের মানুষ সংখ্যানুপাতিক (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থা বোঝে না। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই সংস্কার চাই। কিন্তু সাধারণ মানুষ চায় একটি নির্বাচন, যেখান থেকে নতুন সরকার আসবে। তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়, যারা পার্লামেন্টে তাদের কথা বলবে। এটা খুব সহজ হিসাব।” তিনি আরও বলেন, “এই বিতর্কগুলো কেন তৈরি করা হচ্ছে? এর পেছনে একটা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। সেই উদ্দেশ্য এক-এগারো বা এরশাদের ক্ষমতা দখলের সময়ে ফিরে যাওয়া। একটি মহল বারবার গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরতে চায়। এমনকি শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশাল প্রবর্তন করে এই কাজ করেছেন।” বিএনপি উদার গণতন্ত্র চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা চাই, জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাক। ভোট দিয়ে তারা প্রতিনিধি নির্বাচিত করুক, পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন হোক। পাঁচ বছরে তারা ব্যর্থ হলে জনগণ তাদের বাদ দিয়ে অন্য দলকে নির্বাচিত করবে। এই সহজ বিষয়ে এত তর্ক কেন?” অধ্যাপক ইউনূসের সরকারের জন্য নির্বাচনের দেরি করা ঠিক হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির সময়সীমার পরে নির্বাচন না হলে আপনার বিশ্বব্যাপী সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।” সভায় গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টার সমালোচনা করে বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা গত এক বছরে জন-আকাঙ্ক্ষার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, কিন্তু সংস্কারের নামে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে এত জটিলতা সৃষ্টি করেছেন। আমার ব্যক্তিগত মত, এটা সংস্কারের নামে অপসংস্কার। আপনার এত ম্যান্ডেট নেই। জুলাই সনদ, জুলাই ঘোষণা ঠিক আছে, কিন্তু আর কত সময় লাগবে?” তিনি বলেন, “আমাদের হাতে বেশি সময় নেই। ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। আইনজীবীসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজপথের আন্দোলনে বাধ্য করবেন না।” সভাপতির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, “এখনো ঐকমত্য বা নির্বাচনের রোডম্যাপ দেখি না। গণতন্ত্রের পথে হাঁটুন। আইনজীবীরা কালো কোট পরে মাঠে নামলে কেউ টিকতে পারে না। নির্বাচনের রোডম্যাপ দিয়ে বিদায়ের চিন্তা করুন।” তিনি দুই তরুণ উপদেষ্টাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভার শুরুতে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলন স্বাগত বক্তব্য দেন। জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামালের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস কাজল, গাজী কামরুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মোহাম্মদ আলী, গাজী তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.