Friday, July 18, 2025

মোহাম্মদপুর-আদাবরে দুটি খুন, গুলির ভিডিও ভাইরাল: সাদা টি-শার্ট পরা ব্যক্তি পিস্তল দিয়ে গুলি করেন

রাজধানীর আদাবরে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা টি-শার্ট পরা এবং কালো ব্যাগ কাঁধে ঝোলানো এক ব্যক্তি আরেকজনের সঙ্গে হাঁটছেন। হঠাৎ তিনি ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে পাশে থাকা এক ব্যক্তিকে গুলি করেন, যিনি মুহূর্তের মধ্যে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৬ জুলাই ২০২৫) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আদাবরের নবোদয় হাউজিং সোসাইটির বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে। উপস্থিত কয়েকজন সাদা টি-শার্ট পরা ব্যক্তিকে ধরে মারধর শুরু করেন এবং পরে তাকে ও তার ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তারা হলেন সজীব (৩২) এবং তার ভাই রুবেল (৩৫)। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের নাম মো. ইব্রাহিম শিকদার (৩৮), পেশায় গাড়িচালক। তার বড় ভাই কবির হোসেন শিকদার আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
কবির হোসেন জানান, ইব্রাহিম তার স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে নবোদয় হাউজিংয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের ভাগনে সুজন শিকদার আদাবরের ১৬ নম্বর সড়কের কাঁচাবাজারে সজীবের ডিমের দোকানে কাজ করতেন। কয়েক দিন আগে সুজন ভ্যানে ডিম আনার সময় কিছু ডিম নষ্ট হয়। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সজীব সুজনকে মারধর করেন। এই ঘটনা নিয়ে সন্ধ্যায় বায়তুল মামুর মসজিদের কাছে একটি দোকানে সালিস বৈঠক হয়। সালিসের মাঝে সজীব ইব্রাহিমের গালে চড় মারেন, যা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে সজীব ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে ইব্রাহিমকে গুলি করেন। প্রথম গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও পরে কাছ থেকে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, স্থানীয়রা সজীব ও রুবেলকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেয়। দুই ভাইকে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

ইব্রাহিমের বাড়ি ভোলার দুলারহাট থানার মুজিবনগরে। সজীব সাভারে এবং রুবেল আদাবরে থাকেন, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মুজাহার্দিতে। **মোহাম্মদপুরে আরেকটি খুন** একই সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে পুলিশের তথ্যদাতা আল আমিনকে (৩৮) বাসা থেকে ডেকে এনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আল আমিন সপরিবারে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, সম্প্রতি আল আমিন একটি ছিনতাই মামলার আসামিকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। এর জেরে ওই আসামির ভাই জোবায়েরের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
আল আমিনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় সন্ত্রাসের অভিযোগে পাঁচটি মামলা ছিল। তবে তার ছোট ভাই আবির দাবি করেন, আল আমিন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। এবি গ্রুপের কিশোর গ্যাং নেতা সাদ তাকে দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রাজি না হওয়ায় সাদের বন্ধু শাওন ও সহযোগীরা তাকে হত্যা করেছে। আল আমিনের বাড়ি শরীয়তপুরের সদর উপজেলার হাঁটুরিয়ায়। তার বাবা রিপন সরদার পেশায় গাড়িচালক

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.