Monday, July 14, 2025

চাঁদার জন্যই পরিকল্পিতভাবে সোহাগ হত্যা: মিটফোর্ড গেটে মরদেহ টেনে উল্লাস


পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় চাঁদার বিরোধের জেরে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। খুনিরা, মাহমুদুল হাসান মহিনের নেতৃত্বে, মামলা থেকে বাঁচতে ‘মব’ সাজাতে সোহাগের নিথর দেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটে টেনে এনে উল্লাস করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহিন বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বা অন্য প্রয়োজনে সোহাগের কাছ থেকে টাকা দাবি করত। সোহাগও প্রাথমিকভাবে টাকা দিত। কিন্তু জুনে নির্দিষ্ট চাঁদা দাবির কারণে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। গত ৭ জুলাই তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনার পর মহিন ও টিটন গাজী সোহাগকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। চাঁদা না দিলে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ হারানোর হুমকি দেওয়া হয়। মামলা এড়াতে খুনিরা হত্যাকে ‘মব’ হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করে। ৯ জুলাই সাতটি মোটরসাইকেলে ১৯ জনের একটি দল রজনী বোস লেনে সোহাগের দোকানে হামলা চালায়। কংক্রিট দিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ টেনে হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটে নিয়ে উল্লাস করা হয়। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে: মাহমুদুল হাসান মহিন, তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, আলমগীর, লম্বা মনির, সজিব বেপারি ও রাজিব বেপারি। জিজ্ঞাসাবাদে মহিন হত্যার পরিকল্পনা, প্রকাশ্যে হত্যা, অস্ত্র সংগ্রহ ও উল্লাসের কারণ বিস্তারিত জানিয়েছেন। তারেক রহমান রবিনও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন জানান, হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তে জানা গেছে, মহিন ও টিটন সাম্প্রতিক মবের ঘটনা থেকে উৎসাহিত হয়ে প্রকাশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করেন। অস্ত্র সরবরাহ করেছিল ছোট মনির। এক প্রত্যক্ষদর্শী অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, মহিন সবাইকে বলছিল, “সোহাগ বাঁচলে আমরা শেষ।” এরপর সবাই মিলে হামলা চালায়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে কোনো মাফিয়া বা প্রভাবশালী জড়িত থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোহাগের “সোহানা মেটাল” দোকান বন্ধ রয়েছে। এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পুলিশ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। আনসার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, ঘটনার সময় ৩ নম্বর গেটে আনসার সদস্য ছিল না, তাই অবহেলার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.