Wednesday, July 30, 2025

৫ আগস্টের পর টিউশনি ছেড়ে সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজিতে দুই ভাই

ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৫ – টিউশন করে পড়াশোনার খরচ চালানো সাকাদাউন সিয়াম এবং তার ছোট ভাই সাদমান সাদাব সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকার গুলশানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় এ ঘটনায় এলাকাবাসী বিস্মিত হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিয়াম ও সাদাব রাজধানীর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তাদের আদি বাড়ি নাটোরের গোপালপুরে হলেও বর্তমানে তারা রাজশাহীতে বসবাস করেন। তাদের বাবা এসএম কবিরুজ্জামান একটি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন।

গত শনিবার (২৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে এই দুই ভাইও রয়েছেন। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, তারা সমন্বয়ক পরিচয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন এবং এর আগে ১০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। শনিবার বাকি টাকা দাবি করতে গিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে।

দুই ছেলের গ্রেপ্তারের খবরে তাদের বাবা এসএম কবিরুজ্জামান গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এটা মেনে নেওয়া আমার জন্য কঠিন।” ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেনার দায়ে এক দশক আগে নাটোরের বাড়ি বিক্রি করে রাজশাহীতে চলে আসেন তিনি। বর্তমানে তিনি কেচুয়াতৈল এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কবিরুজ্জামান ফিলিং স্টেশনে স্বল্প বেতনে কাজ করেন, যার বেশিরভাগ বাসা ভাড়ায় চলে যায়। আগে দুই ভাই টিউশন করে খরচ চালাতেন, কিন্তু কয়েক মাস আগে টিউশন বন্ধ করে দেন। রাজশাহীতে তাদের নিজস্ব কোনো সম্পত্তি নেই।

কবিরুজ্জামান বলেন, “আমার আয় খুবই কম। ছেলেদের পড়াশোনায় মাসে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। তারা আগে টিউশন করত, কিন্তু সম্প্রতি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। রোববার জানলাম, তারা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে। এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। তারা ধার্মিক, দাঁড়ি রাখে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে।”

আদালত চাঁদাবাজির মামলায় সিয়াম ও সাদাবসহ চারজনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য ছিলেন, তবে গ্রেপ্তারের পর তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আটককৃত অন্য দুজন হলেন একই সংগঠনের আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সদস্য আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ। তাদেরও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সিয়াম ও সাদাব রাজশাহীর খড়খড়ি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তাদের স্কুলের শিক্ষক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী মহানগর সমন্বয় কমিটির প্রধান মোবাশ্বের আলী বলেন, “এরা ভালো ছাত্র ছিল। তাদের গ্রেপ্তারের খবর শুনে আমি অবাক হয়েছি।”

এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ এবং দুই ভাইয়ের জীবনের অপ্রত্যাশিত মোড় নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা তাদের পরিবার ও সম্প্রদায়কে বিস্ময়ে ফেলেছে।



Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.