Thursday, July 31, 2025

ভারতের ৬ প্রতিষ্ঠানের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা, ইরানের পণ্যের বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ; নতুন শুল্ক ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন সরকার ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়টি ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে মোট ২০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও বিপণনে “গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনে” ইচ্ছাকৃতভাবে অংশ নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে। নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের বড় পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি যেমন অ্যালকেমিক্যাল সলিউশনস, গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যালস, জুপিটার ডাই কেম, রমনিকলাল এস গোসালিয়া অ্যান্ড কোম্পানি, পার্সিসটেন্ট পেট্রোকেম এবং কাঞ্চন পলিমার্স।

এর মধ্যে অ্যালকেমিক্যাল সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানির সঙ্গে জড়িত ছিল। গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যালস লিমিটেড ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল, বিশেষ করে মিথানল কিনেছে। জুপিটার ডাই কেম প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে টলুইনসহ ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ইরানি পণ্য আমদানির অভিযোগ রয়েছে। রমনিকলাল এস গোসালিয়া অ্যান্ড কোম্পানি ২ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল কিনেছে। পার্সিসটেন্ট পেট্রোকেম প্রাইভেট লিমিটেড ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ইরানি মিথানল আমদানি করেছে। কাঞ্চন পলিমার্স ১৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ইরানি পলিথিন পণ্য কিনেছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ বা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পদ জব্দ করা হবে। এছাড়া, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫০ শতাংশ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোও একইভাবে নিষিদ্ধ হবে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের “সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ” নীতির অংশ, যার মাধ্যমে ইরানের “ছায়া নৌবহর” ও মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই রপ্তানি থেকে ইরান যে রাজস্ব পায়, তা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা ছড়ানো ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থনের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞার পর ভারত ইরানি তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস (এসডিএন) তালিকা থেকে নিজেদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য শাস্তি নয়, বরং আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি, ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা ১ আগস্ট, ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া, রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র ও জ্বালানি কেনার জন্য ভারতকে “দণ্ড” দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প, যদিও এই দণ্ডের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
ভারত ছাড়াও তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যারা ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.