জাপান বিশ্ব প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করেছে। দেশটির গবেষকরা সম্প্রতি সফলভাবে অর্জন করেছেন ১.০২ পেটাবিট প্রতি সেকেন্ড (Pbps) ইন্টারনেট গতি—যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ। এই গতি এতটাই দ্রুত যে, তাত্ত্বিকভাবে প্রতি সেকেন্ডে ১০,০০০টিরও বেশি 4K ভিডিও ডাউনলোড করা সম্ভব। এটি শুধু একটি রেকর্ড নয়, বরং ভবিষ্যতের ইন্টারনেটের রূপরেখা।
এই রেকর্ড গড়ার পেছনে রয়েছে একটি ১৯-কোর অপটিক্যাল ফাইবার, যা প্রচলিত ফাইবারের মতোই পাতলা (মাত্র ০.১২৫ মিমি), কিন্তু ভিতরে রয়েছে ১৯টি আলাদা কোর। প্রতিটি কোর আলাদা ডেটা লেনের মতো কাজ করে, ফলে একসাথে বিশাল পরিমাণ ডেটা পাঠানো সম্ভব হয়। গবেষকরা এই ফাইবারের মাধ্যমে ১,৮০০ কিমি দূরত্বে ডেটা পাঠিয়েছেন, তাও সিগন্যালের গুণমান নষ্ট না করে।
প্রযুক্তির মূল দিকগুলোতে রয়েছে C-band ও L-band ওয়েভলেংথ ব্যবহার, যা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সিগন্যাল ট্রান্সমিশনের জন্য উপযোগী। এছাড়া MIMO (Multi-Input Multi-Output) প্রযুক্তি দিয়ে সিগন্যাল বিশ্লেষণ ও পুনর্গঠন করা হয়েছে, যাতে ডেটা বিকৃতি না ঘটে এবং ট্রান্সমিশন থাকে স্থিতিশীল।
অনেকে ভাবতে পারেন, আরও বেশি কোর থাকলে তো আরও বেশি গতি পাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বেশি কোর মানেই বেশি সমস্যা। যেমন, Inter-core Crosstalk বা সিগন্যাল লিকেজ, MIMO প্রসেসিং জটিলতা, Cladding ব্যাস বৃদ্ধি, এবং Amplification সমস্যা। জাপানের ১৯-কোর ডিজাইনটি এই সমস্যাগুলোকে সমাধান করে সিগন্যাল ক্লিন, প্রসেসিং নিয়ন্ত্রিত, এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার-সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখেছে।
এই প্রযুক্তি এখনো গবেষণামূলক পর্যায়ে থাকলেও, এর স্ট্যান্ডার্ড ক্ল্যাডিং, অ্যাম্পলিফায়ার সিস্টেম, এবং দূরত্বে কার্যকারিতা এটিকে বাস্তব ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করে তুলেছে। প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সময়কাল ২০২৫–২০২৬, পাইলট প্রকল্প ও অনুমোদন ২০২৬–২০২৭, এবং বাণিজ্যিক রোলআউট ২০২৮–২০৩০ সালের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাপানের NICT এবং Sumitomo Electric এই প্রযুক্তির উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি AI, 6G, ক্লাউড, এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি-র জন্য ভিত্তি তৈরি করবে। এই অর্জন শুধু একটি রেকর্ড নয়—এটি প্রযুক্তির নতুন যুগের সূচনা।
