Monday, August 4, 2025

গুটিকয় লোক আর্থিক খাত ধ্বংস করেছে: অর্থ উপদেষ্টা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ ছিল না। দুর্নীতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। গুটিকয় লোক দেশের আর্থিক খাত ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “যে ব্যাংকের মালিক, সে সংসদ সদস্য, আবার সে হোটেল ও টেলিভিশনের মালিক ছিল। সব খাতেই একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। তবে এখন আমরা এ থেকে মুক্ত। আসল মুক্তি আসবে, যখন এটা পুনরায় না হবে এবং সবাই সমান সুযোগ পাবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের পরিবার ও যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “আমরা অল্প সময়ের জন্য এসেছি। সংস্কারের জন্য কিছুটা চেষ্টা করেছি। গত ১৫ বছরে প্রতিষ্ঠান, প্রক্রিয়া ও মানুষ সব নষ্ট হয়ে গেছে। এত বছরের পাথর সরাতে সময় লাগবে। কাকে দিয়ে কাজ করাব, এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে এর মধ্যেও সোনার মানুষ আছে। এসব মানুষ নিয়ে সংস্কার করতে হবে।” তিনি বলেন, আর্থিক খাত মোটামুটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। “এ খাত আইসিইউতে ছিল, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। এখন অর্থনীতি কেবিন থেকে বাড়ি ফিরছে। এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।” তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি ব্যাংক খাতে ঠিকভাবে তদারকি করতে পারে, তাহলে আর অনিয়ম হবে না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “আর্থিক খাতকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেব না। আমরা চেষ্টা করব ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে। আমরা অনেক সংস্কারমূলক কাজ হাতে নিয়েছি, যা আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যপদ্ধতি পরিবর্তন হবে। সেখানে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হবে। এই কাজ সঠিকভাবে করতে পারলে সফল হব।” গভর্নর বলেন, “আমানতকারীদের স্বার্থ দেখতে হবে। তাদের স্বার্থই দেশের স্বার্থ। তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারলেই দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে।”
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক বলেন, “আমাদের মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তাই গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছে। এটাকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলা হয়। শহীদ ও আহতদের ঋণ শোধ করা সম্ভব না। তবুও তাদের পরিবারদের সম্মান দেওয়া উচিত। আমরা যদি আর্থিক খাতে কাজ করি এবং সংস্কার করতে পারি, তাহলে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারব।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.