Monday, August 4, 2025

জিম্মিদের কাছে ত্রাণ সরবরাহ করতে প্রস্তুত হামাস, আছে যেসব শর্ত

আজ সোমবার গাজার খান ইউনিস এলাকায় দাতব্য রান্নাঘরের খাবার পেতে ফিলিস্তিনিদের আকুতি। ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনের গাজায় বন্দী জিম্মিদের কাছে ত্রাণ সরবরাহের জন্য রেডক্রসের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত হামাস। গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি। তবে এ জন্য ইসরায়েলকে কিছু শর্ত মানতে হবে। শর্তগুলো হলো—ইসরায়েলকে স্থায়ীভাবে মানবিক করিডর খুলে দিতে হবে এবং ত্রাণ সরবরাহের সময় আকাশপথে হামলা বন্ধ রাখতে হবে। গত শনিবার হামাস এক জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করে। ইভয়াতার ডেভিড নামের ওই জিম্মিকে খুবই জীর্ণশীর্ণ দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি একটি গর্ত খুঁড়ছেন, যাকে তিনি নিজের কবর হিসেবে উল্লেখ করেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের হাতে এখনো ৫০ জন জিম্মি রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হয়। ওই ভিডিও প্রকাশের পর ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিম্মিদের পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বিশেষ অধিবেশনে বসবে। রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিনি জিম্মিদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য রেডক্রসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে আরও ছয়জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজায় অনাহারে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জনে, যাঁদের মধ্যে ৯৩টি শিশু। একই সময়ে ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৬১,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় দেড় লাখ আহত হয়েছেন। গাজায় ত্রাণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ইসরায়েলি সংস্থা সিওজিএটি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ১,২০০ ট্রাকে করে ২৩,০০০ টনের বেশি মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া উড়োজাহাজে করে ত্রাণ ফেলা হচ্ছে। তবে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা গাজার ২২ লাখ মানুষের অনাহার রোধে স্থলপথে ত্রাণ সরবরাহ আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.