কলম্বো, ২৬ আগস্ট ২০২৫: রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তারের চার দিন পর শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহেকে জামিন দিয়েছে কলম্বো ফোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেট নিলুপুলি লঙ্কাপুরার নেতৃত্বে আদালত তাকে তিনটি ৫০ লাখ রুপির (প্রায় ১৬,৬০০ মার্কিন ডলার) বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন।শুক্রবার কলম্বোর অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিক্রমাসিংহেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি হাভানায় জি-৭৭ সম্মেলন এবং নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সফর থেকে ফেরার পথে লন্ডনে তার স্ত্রীর ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রায় ৫৫,০০০ ডলার সরকারি তহবিল ব্যবহার করেছেন।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত জামিন শুনানির সময় বিক্রমাসিংহের শত শত সমর্থক আদালতের বাইরে জড়ো হয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পুলিশের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। তীব্র পানিশূন্যতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের কারণে বিক্রমাসিংহে কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ নির্ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বামপন্থি নেতা অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যান বিক্রমাসিংহে। নির্বাচিত পদে না থাকলেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) দাবি করেছে, সরকার তার ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনায় ভীত, তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্রমাসিংহে বরাবরই বলেছেন, যুক্তরাজ্য সফরের খরচ তিনি নিজেই বহন করেছেন।
দিসানায়েকের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করেছে। ২০২২ সালে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গোটাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ করলে বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ২০২৩ সালে আইএমএফ থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণ এবং কঠোর সাশ্রয়ী নীতির মাধ্যমে অর্থনীতি স্থিতিশীল করেন।
রোববার শ্রীলঙ্কার তিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহের প্রতি সংহতি জানিয়ে তার কারাবাসকে “গণতন্ত্রের ওপর আঘাত” বলে নিন্দা করেন। নতুন সরকার দুর্নীতির অভিযোগে দুই সাবেক মন্ত্রীকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের পরিবারের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা চলছে, যাদের অনেকে জামিনে মুক্ত আছেন।[
Tuesday, August 26, 2025
Author: DhakaGate Desk
Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.
এ সম্পর্কিত আরও খবর
- ফেইসবুক মন্তব্য