Saturday, August 9, 2025

ফাঁদে ফেলে প্রতারণার ভিডিও করায় সাংবাদিক তুহিনকে হত্যা: পুলিশ

গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফাঁদে ফেলে প্রতারণার ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি মার্কেটের ভেতর তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাদশা নামে এক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে ফিরছিলেন। পথে গোলাপী নামে এক নারী তাঁকে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা করেন। প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে বাদশা গোলাপীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান এবং তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ওত পেতে থাকা অন্য আসামিরা বাদশাকে কোপাতে শুরু করেন। প্রাণ বাঁচাতে বাদশা দৌড় দিলে সাংবাদিক তুহিন পেশাগত দায়িত্বে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন।

কমিশনার বলেন, আসামিরা ভিডিওটি দেখে ফেলে এবং তুহিনকে তা মুছে ফেলতে বলে। তিনি রাজি না হওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ও র‍্যাব সাতজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে র‍্যাব এবং ছয়জনকে জিএমপি গ্রেপ্তার করে। সিসিটিভি ফুটেজে আটজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং অবশিষ্ট একজনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। নাজমুল করিম খান বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়, জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, বিশ্বের কোনো দেশেই অপরাধ শূন্যে নামানো সম্ভব হয়নি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে, এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই দিন সকালে পোড়াবাড়ী র‍্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব কোম্পানি কমান্ডার কে এম এ মামুন খান চিশতী দাবি করেন, গ্রেপ্তার মো. স্বাধীন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তুহিনকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার স্বাধীন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার নূর মোহাম্মদের ছেলে এবং নগপাড়ায় মোহাম্মদ আলীর ভাড়াটে। পুলিশ কমিশনার জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর গাজীপুরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে, যা অপরাধ বৃদ্ধির কারণ হয়েছে। তিনি তুহিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেন।
আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.