Wednesday, August 20, 2025

লাল জার্সি নিয়ে বিতর্কে নতি স্বীকার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন

ব্রাজিল ফুটবল দলের হোম জার্সি ঐতিহ্যগতভাবে হলুদ ও সবুজ, আর অ্যাওয়ে জার্সি সবসময় নীল। তবে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নাইকি কর্তৃক সেলেসাওদের জন্য লাল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)।

গত এপ্রিলে সংবাদমাধ্যমে খবর ফাঁস হয় যে ব্রাজিল জাতীয় দল বিশ্বকাপে লাল জার্সি পরতে পারে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। কারণ, ব্রাজিলে লাল রঙ সরাসরি রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে বিবেচিত, যা বামপন্থি ক্ষমতাসীন ‘ওয়ার্কার্স পার্টি’র রঙ, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। অন্যদিকে, ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর সমর্থকেরা রাজনৈতিক সমাবেশে দেশের ঐতিহ্যবাহী সবুজ-হলুদ রঙ ব্যবহার করেন। ফলে জার্সির রঙের বিষয়টি ফুটবল ছেড়ে দ্রুত রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করে।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সামির দাউদ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট, ২০২৫) ব্রাজিলের জনপ্রিয় ক্রীড়াচ্যানেল স্পোর্ত টিভিকে বলেন, “আমি লাল জার্সির তৈরি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। এটা স্পষ্ট যে অ্যাওয়ে জার্সির রঙ নিয়ে মানুষের রাজনৈতিক অবস্থান জড়িয়ে পড়ছে। আমাদের পতাকার রঙই জাতীয় দলের আসল পরিচয়, তাই জার্সিতে নীল, হলুদ, সবুজ ও সাদা—এই চারটি রঙ ব্যবহার করা উচিত।” সামির দাউদ আরও বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি লাল রঙের বিপক্ষে, তবে এর কারণ রাজনৈতিক নয়; বরং জাতীয় প্রতীককে অক্ষুণ্ণ রাখা।” নাইকি এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে এবং নতুন অ্যাওয়ে কিট হিসেবে নীল রঙের জার্সি তৈরির কাজ শুরু করেছে। জানা গেছে, লাল জার্সির পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল সিবিএফের সাবেক সভাপতি এডনালদো রদ্রিগেসের সময়ে। সামির দাউদ দায়িত্ব নেওয়ার পর এই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়।
খ্যাতিমান ক্রীড়া সাংবাদিক পাওলো ভিনিসিউস কোয়েলো মন্তব্য করেন, “এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার ঘাটতি প্রকাশ করে। বিশেষ করে যখন একটি দল হলুদ রঙকে তাদের রাজনৈতিক প্রতীকে রূপ দিয়েছে, তখন লাল জার্সি আরও বড় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতো।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.