Sunday, August 31, 2025

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে হঠাৎ আক্রমণাত্মক ছাত্রদল, রাকসু কার্যালয়ে ভাঙচুর, ফটকে তালা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের বারান্দায় রাখা একটি চেয়ার ভাঙচুর করেন তাঁরা। এ সময় একটি বড় টেবিলও ফেলে দেওয়া হয়। পরে সাড়ে ১০টার দিকে রাকসু ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। এর ফলে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

**রাকসুর কোষাধ্যক্ষ ও প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য** রাকসুর কোষাধ্যক্ষ ও প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা সেতাউর রহমান বলেন, “সকাল ১০টা থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা ফটক আটকে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। এটি সুষ্ঠু পরিবেশের অন্তরায়। এখন মনোনয়ন বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ আছে। তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন না করে নেগেটিভভাবে করছে। প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হলে এই তফসিল বাতিল করতে হবে। নবীনদের এখনো হল সংযুক্তি ও আইডি কার্ড সম্পন্ন হয়নি। এটি সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন।” **ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন** বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষকেরা ছাত্রদলের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “রাকসু একটি দলের কাছে দিতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এটা হতে দেওয়া হবে না। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা অবশ্যই রাকসুতে ভোট দেবে। সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।” **কর্মসূচির বিবরণ** আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটরিয়ামে রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। অবস্থানের একপর্যায়ে তারা চেয়ার ভাঙচুর ও টেবিল ফেলে দেন। সাড়ে ১০টার দিকে রাকসু ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন, যার ফলে মনোনয়ন বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন, যার মধ্যে ছিল: ‘প্রথম বর্ষের ভোটাধিকার, তুমি কে কেড়ে নেওয়ার’; ‘রাকসু ফি দিয়েছি, ভোটার হতে চেয়েছি’; ‘রাকসু আমার অধিকার, তুমি কে কেড়ে নেওয়ার’; ‘ছাত্রদলের অঙ্গীকার, প্রথম বর্ষ দিবে ভোট’। **ছাত্রদলের চলমান আন্দোলন** বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বেশ কিছুদিন ধরে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। নির্বাচন কমিশন অন্য দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগেও তারা একই দাবিতে দুই দিন বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। ২৮ আগস্ট রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে অংশ নিতে ছাত্রদল ২৮টি পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে। **মনোনয়নের বিবরণ** ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনের ২৩টি পদে এবং সিনেটের ৫টি পদে ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সহসভাপতি নুরুদ্দীন আবির, জান্নাতুল নাঈম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস, শাহ মুহাম্মদ কাফী, সামাদ মুবিন, দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক রাফায়েতুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আর রাফি খান, বিজয় ২৪ হলের সভাপতি গাজী ফেরদৌস হাসান ও শেরেবাংলার সভাপতি এম এইচ জেমস। **নির্বাচন কমিশনের তথ্য** নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদে ১৯৯ জন, সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ২৬ জন এবং হল সংসদের বিভিন্ন পদে ৩৭০ জন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। **ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য** বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী) বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথম বর্ষের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়া ও ক্লাস শুরুর তারিখ বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধু নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখতে। আমরা লক্ষ করছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধীরগতিতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা স্পষ্টতই একটি ষড়যন্ত্রের অংশ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভোটার তালিকা ছবিসহ প্রকাশ না করে প্রশাসন নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। দুর্গাপূজার দিনে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে হিন্দু শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।” তিনি জানান, দাবি আদায়ে ছাত্রদল ইতিমধ্যে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তিনি বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীর ভোটাধিকার হরণ হলে সেটি রোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা জিরো টলারেন্সে বিশ্বাস করি। এই রাকসু নির্বাচন একটি লোক দেখানো নির্বাচন হতে যাচ্ছে।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.