Saturday, August 30, 2025

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে তাড়াহুড়া করতে হচ্ছে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আগামী নির্বাচিত সরকার এগিয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নতুন বাস্তবতায় এমন চিন্তা করতে হচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলছে।

শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সরকারের গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। তাজুল ইসলাম বলেন, “নতুন বাস্তবতায় আমাদের ভাবতে হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার এলে তারা এই বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে এগোবে কি না। এই আশঙ্কায় আমাদের তাড়াহুড়া করতে হচ্ছে। ফলে যতটা নিখুঁতভাবে এই কাজ করা দরকার, তা হয়তো সম্ভব হবে না।”

তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গুম-খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করতে না পারলে তা বড় ধরনের ব্যর্থতা হবে। “১৮০০-এর বেশি গুমের ঘটনা নিখুঁতভাবে কয়েক মাসে তদন্ত করা কার্যত অসম্ভব। কিন্তু পরবর্তী সরকার কিছু না করার আশঙ্কায় আমাদের এই অসম্ভব কাজ করতে হচ্ছে,” তিনি বলেন। তাজুল ইসলাম রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এই অপরাধের গুরুত্ব বোঝার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “যদি আগামী সরকার এই বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুত্ব না বোঝে, তবে যে রক্ত দিয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তন এসেছে, তা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাদের পরিচয় শুধুই অপরাধী। কেউ তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করলে তা বিচারে বাধা সৃষ্টির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বৈঠকে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.