জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ক্যাফেটেরিয়া এলাকায় শাখা ছাত্রদলের (জেসিডি) দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের ক্যাম্পাসে আগমনকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াসহ কয়েকজন নেতা ক্যাম্পাসে আসেন। দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন বাবর, সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ প্রমুখ ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে অবস্থান করছিলেন। অন্য নেতা-কর্মীরা ক্যাফেটেরিয়ায় ছিলেন।
কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর আরেকটি দল বাইকে মহড়া দিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার নিচে এসে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে বহিরাগত আনার অভিযোগে স্লোগান দেয়। এতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বহিরাগত কয়েকজনকে ধাওয়া দেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শিক্ষক লাউঞ্জে দেখা করার চেষ্টা করেন। তখন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের অনুসারীরা গেট আটকে দাঁড়িয়ে যায়, ফলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও গালিগালাজের ঘটনা ঘটে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা শিক্ষক লাউঞ্জে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এ সময় শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা ও তাঁদের অনুসারীরা লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে নিচের তলায় অবস্থান নেন।
শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, গত ৮ আগস্ট শাখা ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটি ও ১৭টি হলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও ছিনতাইকারীদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কয়েক দিন ধরে মহড়া দিচ্ছেন। কমিটি ঘোষণার পর থেকে শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা ক্যাম্পাসে ছিলেন না।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন বাবর বলেন, ‘যাঁরা বিশৃঙ্খলা করেছেন, তাঁদের মধ্যে আমাদের সংগঠনের বহিষ্কৃত কিছু নেতা-কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া একটি স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত। কমিটিতে কিছু অসংগতি থাকলেও আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু এটির সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে।’ বহিরাগত প্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা ক্যাম্পাসে এলে বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য ঝামেলা হয়েছিল। প্রক্টরিয়াল টিম তা নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, এবং সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.