Wednesday, August 13, 2025

শতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমিতি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নীলাচল শ্রমজীবী সমবায় সমিতি নামে একটি সমিতি শতাধিক গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলছে, আর ভুক্তভোগী গ্রাহকরা প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে গ্রাহকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্র ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২০ সালে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় নীলাচল শ্রমজীবী সমবায় সমিতি নামে একটি এনজিও গড়ে ওঠে। সমিতির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাইনুদ্দিন খান জয়, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. সবুজ, এবং কোষাধক্ষ ছিলেন মোহাম্মদ জিকু। জিকু চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ১ নং ওয়ার্ডের সোলেমান মিয়ার ছেলে।

সমিতিতে চনপাড়া ও আশপাশের এলাকার প্রায় তিন শতাধিক গ্রাহক যুক্ত হন। প্রথমে কিছু গ্রাহককে ঋণ দিয়ে সমিতি আস্থা অর্জন করে। পরে গ্রাহকরা এফডিআর, সঞ্চয় এবং বিভিন্নভাবে টাকা জমা রাখতে শুরু করেন। স্থানীয় হিসেবে মোহাম্মদ জিকু এসব টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব নেন। কিন্তু কিছুদিন আগে সমিতির কার্যালয় তালাবদ্ধ করে জিকু, জয়, সবুজসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান। তালাবদ্ধ অফিস দেখে গ্রাহকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং প্রতারকদের খুঁজতে গিয়েও তাদের সন্ধান পাননি। চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ১ নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে মোহাম্মদ শাহিন জানান, তিনি দৈনিক সঞ্চয় হিসাবে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা, এফডিআর-এ ৫ লাখ টাকা, স্ত্রীর সঞ্চয় হিসাবে ৭৩ হাজার টাকা এবং মায়ের এফডিআর-এ ৫০ হাজার টাকা—সর্বমোট ৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, জিকুর বাবা ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা অপহরণ মামলার হুমকি দিয়েছেন। একই এলাকার আল আমিন মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, মাসিক মুনাফা ভিত্তিতে তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। সমিতি তালা বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি ও তার পরিবার এখন দিশেহারা। সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। উপজেলা সমবায়বিষয়ক অফিসার আলমগীর আজাদ ভূঁইয়া জানান, ৭০ জন গ্রাহকের প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরও গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, নীলাচল শ্রমজীবী সমবায় সমিতি তালা বন্ধ করে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমবায় অফিসারকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.