Monday, August 4, 2025

বেনাপোল স্থলবন্দরে রেলপথে পণ্য আমদানি কমছে

ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের কাছে সঙ্কট কাটিয়ে বাণিজ্য পরিস্থিতির উন্নয়নে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে রেলপথে পণ্য আমদানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে রেলপথে পণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলপথে মাত্র ১২ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যেখানে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার মেট্রিক টন। এতে চলতি অর্থবছরে আমদানিতে ২৯ হাজার মেট্রিক টনের ঘাটতি হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেল ও সড়কপথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেশি। রেলপথে পণ্য আমদানি সময় ও খরচ কমায় এবং নিরাপদে পণ্য খালাস নিশ্চিত করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত সরকারের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক আমদানিকারক রেলপথে পণ্য আমদানি করতে পারছেন না। বাংলাদেশ থেকে রেলপথে ভারতে পণ্য রফতানির নির্দেশনা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া, বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে পণ্য খালাসের জন্য কোনো শেড বা ইয়ার্ড নির্মাণ না হওয়ায় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে মাত্র ১,২৯৬টি ওয়াগনে ১২ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যেখানে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার মেট্রিক টন। বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে আমদানি ২৯ হাজার মেট্রিক টন কমেছে। ব্যবসায়ীরা এই সঙ্কট কাটাতে এবং বাণিজ্য পরিস্থিতির উন্নয়নে দুই দেশের সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে সাধারণত খাদ্য শস্য, সার, কাগজ, মোটর গাড়ি, ট্রাক ও বাস চেসিস এবং তুলা আমদানি হয়। আমদানিকারক প্রতিনিধি মেসার্স এম এম ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মেহের উল্লাহ বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেলপথে প্রচুর পরিমাণে পণ্য আমদানি হয়েছিল। কিন্তু ডলার সঙ্কটের কারণে এলসি কমে যাওয়ায় রেলে আমদানি কমেছে। ৫ আগস্টের পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির কারণে রেল বাণিজ্য ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে। সম্পর্কের উন্নতি হলে আগামীতে রেলপথে আমদানি বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করা যায়।” বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী হবিবর রহমান হবি বলেন, “এক বছর আগেও বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেলপথে বছরে ১৫ থেকে ২০টি ওয়াগন আমদানি হতো। বর্তমানে ভারত থেকে রেলে আমদানি অনেকটাই কমে গেছে। রেলে আমদানি হলে আমদানিকারকের খরচ কম হয়। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হলে রেল বাণিজ্য পুনরায় শুরু হবে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে এবং হয়রানি কমবে।”
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, “জুলাই-আগস্ট আন্দোলন এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫টি ট্রেন আসত, কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ২ থেকে ৩টি ট্রেনে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ২৯ হাজার টন পণ্য কম আমদানি হয়েছে, এবং রেলওয়ের রাজস্ব আদায় হয়েছে আড়াই কোটি টাকা।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.