Sunday, August 24, 2025

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা: পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবেই পিছিয়ে রাখা হয়েছিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, যেমনটি অন্য বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে রয়েছে। রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, তিনি ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং বহুমাত্রিক। আজকের বৈঠকে আমি এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভবিষ্যতের জন্য এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি। আমরা পারস্পরিক সম্মান, সমঝোতা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে চাই।” অমীমাংসিত বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান একই কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, “অমীমাংসিত বিষয়ে দুই দেশ নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। আমি এটাকে একটি অগ্রগতি মনে করি যে, আমরা দুই পক্ষ একমত হয়েছি যে এই বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগুলো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।” তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, একটি বিষয়ে শুধু কথা হয়েছে যেটাকে খানিকটা অগ্রগতি হিসেবে ধরে নিতে পারেন। আমরা তিনটি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছি। দুই পক্ষ একটি বিষয়ে ঠিক করেছি, এটা আমাদের সমাধান করতে হবে, সেটি হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যাতে সুষ্ঠুভাবে এগোতে পারি। এজন্য এগুলো পেছনে ফেলতে হবে।” পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই পাকিস্তানের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক হোক, এর বেশি কিছু না। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই আলাপ-আলোচনা প্রয়োজন। সেই দৃষ্টিভঙ্গিতেই সম্পর্ক এগোচ্ছে।” এদিকে, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, একাত্তর ইস্যুতে ১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং ২০০২ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশাররফ হোসেন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশের একমত কি না, এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “আমি অবশ্যই একমত না। একমত হলে তো সমস্যাটার সমাধান হয়ে যেত তাদের মতো করে। আমি বলেছি, আমরা আমাদের অবস্থান বলেছি, ওনারা ওনাদের অবস্থান বলেছে।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.