Friday, August 1, 2025

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাসহ ১২ দেশে ১৫ ফার্স্ট সেক্রেটারি নিয়োগ দিচ্ছে সরকার



যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালিসহ ১২টি দেশের ১৫টি মিশনে ১৫ জন ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রথম সচিব) নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। এছাড়া আরও চারটি দেশে চারজন সেকেন্ড সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, বিদেশের বিভিন্ন মিশনে প্রথম ও দ্বিতীয় সচিব নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। শর্টলিস্ট করা কর্মকর্তাদের তালিকা প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই তালিকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। **কাকে কোথায় পদায়ন করা হবে** ১৫ জন ফার্স্ট সেক্রেটারির মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) তাহমিনা তারিনকে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে প্রথম সচিব হিসেবে পদায়ন করা হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কামরুন নাহারকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে প্রথম সচিব হিসেবে, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব লামইয়া সাইফুলকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে প্রথম সচিব হিসেবে, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিনকে কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে প্রথম সচিব হিসেবে, ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার সিনিয়র সহকারী সচিব এ. ডব্লিউ. এম. রায়হান শাহকে সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে প্রথম সচিব হিসেবে পদায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপপ্রধান (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. আব্দুল জব্বারকে সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে, ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইয়াছিন কবীরকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) রুবাইয়া আফরোজকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আনিচুর রহমানকে ওমানের মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাসে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবিদুর রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মুসফিকুল আলম হালিমকে বাহরাইনের মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে, ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আতিকুল মামুনকে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসে, নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সৈকত ইসলামকে কাতারের দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে, নাটোরের নলডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান আকরামুল হককে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে এবং চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাদিউর রহিম জাদিদকে ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে প্রথম সচিব হিসেবে পদায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া, জর্ডান, হংকং, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে অন্তত চারজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হতে পারে। তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিবের পিএস মো. রাহাত বিন কুতুবকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে, নীলফামারী সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল হককে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে, নীলফামারীর ডিমলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমাকে হংকংয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার জি এম রাশেদুল ইসলামকে জর্ডানের আম্মানে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে পদায়ন করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বেশ কিছু কর্মকর্তার শর্টলিস্ট তৈরি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সম্পন্ন হবে। আরেক কর্মকর্তা বলেন, অতীতে কর্মকর্তা স্বল্পতার কারণে একাধিক দূতাবাসে পাসপোর্ট ও ভিসা সেবায় দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানির অভিযোগ ছিল। নতুন নিয়োগের ফলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমবে। শর্টলিস্টে থাকা একজন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, এই দায়িত্ব অত্যন্ত সম্মানের ও চ্যালেঞ্জিং। তিনি জানান, অতীতে সেবামূলক কাজের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্রুত ও মানসম্পন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে দ্রুততম সময়ে সেবা পৌঁছে দিতে চাই। দেশের বাইরে থেকেও দেশের জন্য অবদান রাখাই আমার লক্ষ্য।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.