মিয়ানমারের জাতিগত শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আগামী জাতীয় নির্বাচন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সামরিক জান্তার পরিকল্পিত জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার ঘোষণা দেয়।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আরাকান আর্মি ক্ষমতাসীন জেনারেলদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এই গোষ্ঠীটি দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরো অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
আরাকান আর্মি ছাড়াও কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করা বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মুখোমুখি হচ্ছে জান্তা। এছাড়া, নতুন গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা ইউনিটগুলোও এখন সম্মুখ সারির লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের সময় জারি করা জাতীয় জরুরি অবস্থা গত জুলাইয়ের শেষের দিকে প্রত্যাহার করে নেয় সামরিক জান্তা। ওই সময় ঘোষণা দেওয়া হয় যে আগামী ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতারাসহ জান্তাবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ এই নির্বাচনকে “প্রতারণা” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, জান্তার শাসন টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।
মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে অন্তত ১৪টি আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র খাইং থু খা বলেছেন, “জনসমর্থনবিহীন নির্বাচন জনগণের কোনও উপকারে আসবে না, বরং তাদের আরও বিভ্রান্ত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “সামরিক জান্তা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু আমাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তা হতে দেওয়া হবে না। এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, রাখাইনবাসী নির্বাচনে আগ্রহী নন।”
জান্তার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিয়ানমারের মোট ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে অন্তত ২৫ লাখ রাখাইনে বাস করেন, যা বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে আরাকান আর্মি এবং সামরিক জান্তার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর ছিল, কিন্তু ২০২৩ সালের শেষের দিকে তা ভেস্তে যায়। এরপর দেশটির অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরাকান আর্মির সঙ্গে জান্তাবিরোধী লড়াইয়ে যোগ দেয়।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইনে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে এবং উপকূলীয় এই রাজ্যে অঘোষিত অবরোধ আরোপ করে দেশের বাকি অংশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাখাইনে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছেন। জান্তা জানিয়েছে, তারা স্থিতিশীলতা, শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে রাজ্যের ১৪টি শহরে স্থানীয়ভাবে জরুরি অবস্থা জারি রেখেছে।[](https://www.irrawaddy.com/news/politics/aa-rejects-juntas-planned-election-in-rakhine.html)
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.