Friday, August 29, 2025

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে


তাইফুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদক;
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে “গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫”-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে গুম করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, গুম-সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, খসড়া অধ্যাদেশটি নিয়ে আরো আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পুনরায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, গুমকে সংজ্ঞাসহ চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। গোপন আটক কেন্দ্র স্থাপন বা ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভুক্তভোগী, তথ্য প্রদানকারী ও সাক্ষীর অধিকার সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তার বিধানও রাখা হয়েছে। শফিকুল আলম জানান, খসড়াটি গুম-সংক্রান্ত কমিশন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ব্লাস্ট, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার মতামত এবং আইন ও বিচার বিভাগের দুটি মতবিনিময় সভার পরামর্শ পর্যালোচনা করে পরিমার্জন করা হয়েছে। **তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ, একটির অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত** উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ এবং একটি স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বন্ধ ঘোষিত বন্দরগুলো হলো—নীলফামারীর চিলাহাটি, চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ এবং রাঙ্গামাটির তেগামুখ। এছাড়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হবে। শফিকুল আলম বলেন, মন্ত্রিসভা কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশে অনেক স্থলবন্দর অনুমোদিত হলেও বেশিরভাগই অকার্যকর। অবকাঠামোর অভাব বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম না থাকায় এগুলো চালু রাখতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এসব স্থানে কর্মকর্তা নিয়োগ ও করদাতাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু স্থলবন্দর অনুমোদন দেওয়া হলেও সেগুলোতে প্রত্যাশিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি, যা সরকারের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, কার্যক্রমহীন আরো চারটি স্থলবন্দর নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এছাড়া, ১৭ অক্টোবর লালন সাঁইয়ের ‘তিরোধান দিবস’কে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন। -----তাইফুর রহমান তুহিন

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.