নিহতরা হলেন নমিতা রানী পাল (৪২) ও তার মেয়ে তন্বী রাণী পাল (১৮)। নমিতা মৃত জীবন চন্দ্র পালের স্ত্রী।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, জীবন চন্দ্র পালের মৃত্যুর পর নমিতা সংসারের দায়িত্ব নেন। উপার্জনক্ষম কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় তিন মেয়ের মধ্যে দুজনের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে তন্বীকে নিয়ে সংসার চালাতে নমিতা একটি গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন। তবে গত দুই মাস ধরে অসুস্থতার কারণে তিনি কাজে যেতে পারছিলেন না, ফলে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে তিনি চরম মানসিক চাপে ছিলেন।
ওসি আজিজুল হক জানান, বুধবার সকালে প্রতিবেশীরা তাদের ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে মা-মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষপানের মাধ্যমে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভাবের কারণেই তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।