মো. সরওয়ার আলম সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উপসচিব (সংযুক্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সোমবার (১৮ আগস্ট ২০২৫) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা সরওয়ার আলমকে সিলেট জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
সরওয়ার আলম এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুর্নীতি ও ভেজালবিরোধী অভিযান এবং নিষ্ঠাপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচনায় এসেছিলেন। তিনি ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে নিজের পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেন, “তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর আজ উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।”
২০২১ সালের ৭ মার্চ সরকার ৩৩৭ জন সিনিয়র সহকারী সচিবকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়। কিন্তু ২৭তম বিসিএসের এই আলোচিত প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা তখন পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন। ২০০৮ সালের নভেম্বরে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন তিনি। ২০১৪ সালের ১ জুন তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান। প্রায় সাত বছর সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে এবং মোট ১২ বছরেরও বেশি সময় প্রশাসনে থাকলেও তিনি পদোন্নতি পাননি।
২০২২ সালে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে তৎকালীন র্যাবের এই আলোচিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিরস্কার সূচক লঘুদণ্ড পান। এর আগে ২০২১ সালের ৩০ জুন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয় এবং কৈফিয়ত তলব করা হয়। তবে তিনি লিখিতভাবে কোনো বক্তব্য দেননি।
তার পদোন্নতি না পাওয়ার ঘটনা তখন ব্যাপক আলোচিত ছিল। সরওয়ার আলম বলেছিলেন, “অনেক সরকারি কর্মকর্তা আমার পদোন্নতি না হওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছেন না। তারা এ নিয়ে অবাক হয়েছেন। তবে এটাই বাস্তবতা।”
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট ২০২৫) সরওয়ার আলমসহ ১১৭ জন কর্মকর্তা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়েছেন উপসচিব পদে। এই কর্মকর্তারা পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
২৭তম বিসিএসে প্রশাসনে যোগ দেওয়া সরওয়ার আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত সরওয়ার র্যাবে যোগদানের পর থেকে সবসময় আলোচিত ছিলেন। তিনি বারবার কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। স্বার্থান্বেষী মহল তার কাজে অসন্তুষ্ট থাকলেও জনগণ তাকে অফুরান ভালোবাসা দিয়েছে।
১৯৮৩ সালে তিনি বাড়ির পাশের ইসমাইল মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে পাকুন্দিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় (বর্তমানে পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) থেকে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ পান। এরপর কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজে ভর্তি হন। ১৯৯৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। ২০০৫ সালে তিনি প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০০৮ সালে ২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্রশাসনে যোগ দেন।
২০০৯ সালে তিনি চট্টগ্রামের সানজিদা শারমিন লিন্ডার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চার কন্যা—মাহরিন সামারা, নাজিফা সাফরিন, তানহা ও মানহা।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.