Sunday, August 10, 2025

ব্রাজিল থেকে চট্টগ্রামে আসা কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত

ব্রাজিল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয় পদার্থ শনাক্ত হয়েছে। বন্দরের মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ রেডিয়েশন ডিটেকটিভ সিস্টেমের মাধ্যমে এটি ধরা পড়ে। কনটেইনারটি পুরোনো লোহার টুকরা বা স্ক্র্যাপ বহন করছিল এবং ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ৬ আগস্ট খালাসের সময় ৪ নম্বর ফটক দিয়ে বের করার সময় তেজস্ক্রিয় সংকেত বেজে ওঠে। পরবর্তীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটির খালাস স্থগিত করে এটিকে আলাদা স্থানে রাখে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, কনটেইনারে থাকা স্ক্র্যাপে প্রাথমিক পরীক্ষায় তিনটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ—থোরিয়াম-২৩২, রেডিয়াম-২২৬ এবং ইরিডিয়াম-১৯২—শনাক্ত হয়েছে। বিকিরণের মাত্রা ঘণ্টায় ১ মাইক্রোসিয়েভার্টস, যা খুব উচ্চ না হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করছে। এ কারণে কনটেইনারটি মানুষের সংস্পর্শ এড়াতে আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ৩০ মার্চ, ২০২৫ তারিখে কনটেইনারটি ব্রাজিলের মানাউস বন্দরে জাহাজে তোলা হয়। এরপর পানামার ক্রিস্টোবাল, নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর হয়ে চট্টগ্রামে আসে। এই চারটি বন্দরের মধ্যে তিনটিতে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ যন্ত্র থাকলেও কোথাও এটি ধরা পড়েনি। চট্টগ্রাম কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, এই স্ক্র্যাপ আমদানিকারক ঢাকার ডেমরার আল আকসা স্টিল মিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি মোট পাঁচটি কনটেইনারে ১৩৫ টন স্ক্র্যাপ আমদানি করেছে, যার মধ্যে একটিতে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান বলেন, “খালাস স্থগিত করে কনটেইনারটি আলাদা করে রাখা হয়েছে। পরমাণু শক্তি কমিশনকে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এসে সরেজমিনে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয় ২০১৪ সালে। চট্টগ্রাম থেকে ভারতে পাঠানোর পথে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে স্ক্র্যাপ বোঝাই একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়ে। কনটেইনারটি চট্টগ্রামে ফেরত আনার পর আন্তর্জাতিক দলের সহায়তায় রেডিয়াম বেরিলিয়াম নামের তেজস্ক্রিয় পদার্থ আলাদা করা হয়।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.