ব্রাজিল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয় পদার্থ শনাক্ত হয়েছে। বন্দরের মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ রেডিয়েশন ডিটেকটিভ সিস্টেমের মাধ্যমে এটি ধরা পড়ে। কনটেইনারটি পুরোনো লোহার টুকরা বা স্ক্র্যাপ বহন করছিল এবং ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ৬ আগস্ট খালাসের সময় ৪ নম্বর ফটক দিয়ে বের করার সময় তেজস্ক্রিয় সংকেত বেজে ওঠে। পরবর্তীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটির খালাস স্থগিত করে এটিকে আলাদা স্থানে রাখে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, কনটেইনারে থাকা স্ক্র্যাপে প্রাথমিক পরীক্ষায় তিনটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ—থোরিয়াম-২৩২, রেডিয়াম-২২৬ এবং ইরিডিয়াম-১৯২—শনাক্ত হয়েছে। বিকিরণের মাত্রা ঘণ্টায় ১ মাইক্রোসিয়েভার্টস, যা খুব উচ্চ না হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করছে। এ কারণে কনটেইনারটি মানুষের সংস্পর্শ এড়াতে আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয় ২০১৪ সালে। চট্টগ্রাম থেকে ভারতে পাঠানোর পথে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে স্ক্র্যাপ বোঝাই একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়ে। কনটেইনারটি চট্টগ্রামে ফেরত আনার পর আন্তর্জাতিক দলের সহায়তায় রেডিয়াম বেরিলিয়াম নামের তেজস্ক্রিয় পদার্থ আলাদা করা হয়।