গাজীপুর, ১১ আগস্ট ২০২৫ – গাজীপুরের শ্রীপুরে এক স্কুলছাত্রীকে কোল্ডড্রিঙ্কসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিশুর পিতা এ ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের কাওরাইদ মোড়ল পাড়া গ্রামে। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম হায়দার (৪৫), জসীম উদ্দীন (৩০), বাবলু মিয়া (২৫) এবং সাব্বির আহমেদ (২০)। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি স্কুলে পড়াশোনা করে। প্রায় ২০ দিন আগে স্কুল থেকে ফেরার পথে বৃষ্টির কারণে সে একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। অভিযুক্তরা তাকে কোল্ডড্রিঙ্কসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে পান করায়। অচেতন অবস্থায় তাকে পাশের গজারি বনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তারা পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং কাউকে বিষয়টি জানালে ভিডিও প্রকাশ ও হত্যার হুমকি দেয়। এরপর ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
ভয়ে শিশুটি প্রথমে পরিবারের কাউকে কিছু জানায়নি। কিন্তু অভিযুক্তরা ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। ভিডিওটি তার ভাইয়ের নজরে আসার পর সে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করে। শনিবার শিশুর পিতা শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর ভাই বলেন, “ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মোড়ল বলেন, “এরা সবাই মাদকসেবী। দিনের বেলায় মাদক সেবন করে, রাতে চুরি করে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তারা শিশুটিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এরা অপরাধী, এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে আমাদের মা-বোনরাও ঘর থেকে বের হতে পারবে না।”
ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, “অভিযোগের পর মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।”