Thursday, August 14, 2025

লুটের পাথর উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, ১৩০ ট্রাক জব্দ

সিলেটে চুরি ও লুট হওয়া সাদা পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযানে ১৩০টি পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ১২টার পর থেকে সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কের সিলেট ক্লাবের সম্মুখে যৌথবাহিনী চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদা পাথর এলাকা থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের অভিযান জোরদার হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে, যা পুনরায় নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চুরি হওয়া পাথর ফেরত না আসা পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, “সাদা পাথর থেকে চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান ও চেকপোস্ট পরিচালনা করেছি। যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সিলেট ক্লাবের সম্মুখে যৌথবাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধ বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” কালবেলার ‘রাতের আঁধারে শত শত ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সাদা পাথর’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাদা পাথর পর্যটন স্পটে অভিযান পরিচালনা করে। দুদক কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ততায় ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফী মোহাম্মদ নাজমূস সাদাতের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি টিম সাদা পাথর এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে রাফী মোহাম্মদ নাজমূস সাদাত গণমাধ্যমকে বলেন, “যাদের যোগসাজশে নির্বিচারে পাথর লুট হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে তদন্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এ ধরনের লুটপাটে স্থানীয় প্রশাসন ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী, এবং পর্যটন খাতের ক্ষতির সঙ্গে প্রশাসনের যোগসাজশ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” দুদক সূত্র জানায়, কয়েক শত কোটি টাকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছেন যে, প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আশ্রয়ে এই লুটপাট চলছে, যা প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন শিল্পকে হুমকির মুখে ফেলেছে। স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সিলেট জেলার ৮টি পাথরকোয়ারি ও ১০টি কোয়ারিবহির্ভূত এলাকা থেকে পাথর লুটপাট শুরু হয়। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা, ভোলাগঞ্জ পাথরকোয়ারি, সংরক্ষিত বাঙ্কার এলাকা, জাফলং ও বিছনাকান্দি থেকে গণহারে পাথর লুট হয়েছে। সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথরের ৮০ শতাংশ সাবাড় হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন এখন লুট হওয়া পাথর জব্দ ও লুটপাট ঠেকাতে তৎপর হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাদা পাথরসহ সিলেটের অন্যান্য এলাকা থেকে পাথর লুট বন্ধে করণীয় নির্ধারণে ১৩ আগস্ট একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে ৫টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়: জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে; গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে যৌথ বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে; পাথর ভাঙার অবৈধ যন্ত্রের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নসহ বন্ধ করা হবে; পাথর চুরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হবে; এবং চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার মিতা কালবেলাকে বলেন, “চুরি ও লুট হওয়া সাদা পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযানে প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর ও ১৩০টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। চুরি হওয়া পাথর ফেরাতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.