Friday, August 15, 2025

ট্রাম্প-পুতিন আলোচনা ব্যর্থ হলে ভারতের ওপর আরও শুল্ক চাপাবে যুক্তরাষ্ট্র, হুঁশিয়ারি মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে এই বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এই বৈঠকের ফলাফল ব্যর্থ হলে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

বুধবার ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, “রুশ তেল কেনার কারণে আমরা ইতোমধ্যেই ভারতের ওপর সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করেছি। আলোচনার ফল ভালো না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শুল্ক আরও বাড়তে পারে।”

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, যা বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই শুল্ক ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে, যা ভারতের টেক্সটাইল ও গহনার মতো রপ্তানিমুখী শিল্পে বড় ধাক্কা দিতে পারে এবং দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আধা শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। বুধবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মস্কো শান্তিচুক্তিতে রাজি না হলে “গুরুতর পরিণতি” ভোগ করতে হবে। বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইউরোপীয়রা বাইরে থেকে সমালোচনা করছে। তাদের উচিত আমাদের সঙ্গে সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপে অংশ নেওয়া।” বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত সস্তা রুশ তেল আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে, যা দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে এবং চলমান বাণিজ্য আলোচনায় বাধা তৈরি করেছে। ২০২১ সালে ভারতের তেল আমদানির মাত্র ৩ শতাংশ ছিল রাশিয়ার, কিন্তু ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৩৫-৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। দিল্লি যুক্তি দিয়েছে, জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে তাদের দরিদ্র জনগণকে বাড়তি ব্যয় থেকে রক্ষা করতে সবচেয়ে সস্তা তেল কেনা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের শুল্ক আরোপকে “অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন” বলে অভিহিত করেছে। মঙ্গলবার ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট ভারতের বাণিজ্য আলোচনার অবস্থানকে “কিছুটা অনমনীয়” বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বারবার ভারতকে “শুল্ক অপব্যবহারকারী” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আগ্রহী। দিল্লি-ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা কয়েক মাস ধরে চলছে। আগামী ২৫ আগস্ট মার্কিন প্রতিনিধি দল দিল্লিতে পৌঁছে পুনরায় আলোচনা শুরু করবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের শুল্ক কমাতে ভারতের অনীহা এই আলোচনার বড় বাধা।
এই শুল্ক নীতি ভারতকে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি কর আরোপিত বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত করবে। ফলে ভারতের অর্থনীতি, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী খাতগুলো, বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.