Monday, August 25, 2025

স্বামীকে বাঁচাতে নিজের লিভার দান করেন, অস্ত্রোপচারের পর দুজনই মারা গেলেন

ভারতের মহারাষ্ট্রে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, এক নারী তাঁর স্বামীকে বাঁচাতে নিজের লিভারের একটি অংশ দান করেছিলেন। কিন্তু লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের পর স্বামী-স্ত্রী দুজনই মারা গেছেন। এ ঘটনায় পুনের সহ্যাদ্রি হাসপাতালের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রাজ্যের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপপরিচালক নাগনাথ ইয়েমপাল্লে রোববার জানান, হাসপাতালকে সোমবারের মধ্যে লিভার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া–সংক্রান্ত সব তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা হাসপাতালের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছি এবং গ্রহীতা ও দাতার তথ্য, তাঁদের ভিডিও রেকর্ডিং এবং চিকিৎসাপদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য চেয়েছি। হাসপাতালকে সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে সব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।” রোগী বাপু কোমকারের লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য তাঁর স্ত্রী কামিনী নিজের লিভারের একটি অংশ দান করেছিলেন। গত ১৫ আগস্ট তাঁদের অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের দুই দিন পর, ১৭ আগস্ট, বাপুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি মারা যান। এরপর ২১ আগস্ট কামিনীর শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। এই দম্পতির পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার যথাযথ নিয়ম মেনে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এক বিবৃতিতে হাসপাতাল মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছি। বিষয়টির বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” হাসপাতাল জানিয়েছে, রোগী বাপু কোমকার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ছিলেন এবং তাঁর একাধিক শারীরিক জটিলতা ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, “তাঁদের এই বিরাট ক্ষতির জন্য আমরা কোমকার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। জীবিত দাতার লিভার প্রতিস্থাপন সবচেয়ে জটিল শল্যচিকিৎসাগুলোর একটি। এ ক্ষেত্রে রোগী উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ছিলেন এবং তাঁর নানা জটিলতা ছিল।” হাসপাতাল আরও জানায়, পরিবার ও দাতাকে অস্ত্রোপচারের উচ্চঝুঁকির বিষয়ে আগেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া হয়েছিল। মানসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে অস্ত্রোপচার করা হলেও, প্রতিস্থাপনের পর রোগী কার্ডিওজেনিক শকে পড়েন এবং সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দাতা কামিনী প্রথমে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন, কিন্তু পরে তীব্র সংক্রমণের কারণে তাঁর শরীরে সেপটিক শক, অতিরিক্ত প্রদাহ এবং একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে পড়ে। অত্যাধুনিক চিকিৎসা দেওয়ার পরও তাঁর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.