নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাটে অবস্থিত আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেড তুরস্কে ৫,৫০০ ডেডওয়েট টনের (ডিডব্লিউটি) অত্যাধুনিক বহুমুখী জাহাজ ‘ওয়েস ওয়্যার’ রপ্তানি করতে যাচ্ছে। আগামী রোববার (৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) জাহাজটি তুরস্কের বিখ্যাত কোম্পানি নোপ্যাক শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রমিজ সেন।
বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড়’ জাহাজ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আনন্দ শিপইয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘ওয়েস ওয়্যার’ উন্নত নকশা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ ফুট, প্রস্থ ৫৫ ফুট এবং গভীরতা ২৫ ফুট। এটি ২,৭৩৫ হর্স পাওয়ার ইঞ্জিন দ্বারা চালিত এবং প্রতি ঘণ্টায় ১২ নট গতিতে ৫,৫০০ টন পণ্য বহন করতে সক্ষম। জাহাজটি ইস্পাতের কয়েল, কয়লা, সার, খাদ্যশস্য এবং রাসায়নিক পদার্থ পরিবহনের জন্য উপযুক্ত।
এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আনন্দ শিপইয়ার্ড যুক্তরাজ্যভিত্তিক এনজিয়ান শিপিং কোম্পানি লিমিটেডে ৬,১০০ ডিডব্লিউটি জাহাজ রপ্তানি করে, যা বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোর একটি ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরে রপ্তানির মাধ্যমে বছরে ২ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব। এছাড়া, গভীর সমুদ্রে রাসায়নিক কারখানা স্থাপন করে জলজ উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক শৈবাল থেকে ঔষধ কারখানার কাঁচামাল সরবরাহ করা যেতে পারে, যা আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।[](https://www.tbsnews.net/bangladesh/ananda-shipyard-exports-largest-ship-bangladesh-signalling-industry-revival-495334)
আনন্দ শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এ পর্যন্ত তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছে ৩৫০টিরও বেশি জাহাজ সরবরাহ করেছে। ২০০৮ সালে ডেনমার্কে ‘স্টেলা মেরিস’ কন্টেইনার জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে সমুদ্রগামী জাহাজ রপ্তানিকারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর জার্মানি, নরওয়ে, মোজাম্বিক, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে জাহাজ রপ্তানি করেছে।[](https://www.tbsnews.net/bangladesh/ananda-shipyard-exports-largest-ship-bangladesh-signalling-industry-revival-495334)
প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি পরিচালক ড. নাজমা নওরোজ জানান, জাহাজটির নির্মাণ কাজ শেষে সকল মেশিনারি টেস্ট ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। সি ট্রায়াল শেষ হওয়ায় জাহাজটি ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে সুবিধা দেওয়া শুধু সময়ের দাবি নয়, বাংলাদেশের একাধিক রপ্তানি খাতে অংশগ্রহণের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি ব্লু-ইকোনমির গুরুত্বপূর্ণ খাত, এবং এর উন্নয়ন ছাড়া ব্লু-ইকোনমি পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হবে না।
৯ লাখ বর্গফুটের আনন্দ শিপইয়ার্ডে একসঙ্গে ১০ হাজার টন পর্যন্ত ৮টি জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহেল বারী বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে আমরা জাহাজ রপ্তানি শুরু করেছি। তুরস্কে পাঠানো এই জাহাজটি এ পর্যন্ত রপ্তানি করা জাহাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী, একটি জাহাজের অর্থায়নের ৮৫ শতাংশ ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আসে, তবে বাকি ১৫ শতাংশ (২৫-৩০ কোটি টাকা বা ২.৫-৩ মিলিয়ন ডলার) নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যবস্থা করতে হয়। এত বড় অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন, কারণ ব্যাংকগুলো প্রায়শই এটি সরবরাহে অনীহা প্রকাশ করে। এর ফলে উৎপাদনের সময় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল আটকে যায়, যা বিলম্বের কারণ হয়। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্প সুদে অর্থায়নের অভাব এই শিল্পের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
Saturday, September 6, 2025
Author: DhakaGate Desk
Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.
এ সম্পর্কিত আরও খবর
- ফেইসবুক মন্তব্য