ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার মূল সড়কে চলাচলের প্রতিবাদে প্রাইভেট কার মালিকদের রোড ট্যাক্স বর্জনের আহ্বান সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, “মেইন রাস্তায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চললে গাড়ির ট্যাক্স দেব না।” তাঁর এই পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, এবং একের পর এক পোস্টে সামাজিক মাধ্যম ভরে উঠছে। লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারে এসব পোস্ট এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ট্যাক্স ছাড়া কি কোনো গাড়ি রাস্তায় চলতে পারে? এটি কখনোই সম্ভব নয়। ট্যাক্সের কাগজপত্র ছাড়া রাস্তায় বের হলেই ট্রাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হবে, এবং শেষ পর্যন্ত মামলা ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। ঢাকাবাসীর জন্য গাড়ি এখন আর সৌখিনতা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তা। তবুও, গাড়ির মালিকদের প্রতি বছর সিসি অনুযায়ী ৩৫ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স দিতে হয়। একাধিক গাড়ির মালিকদের অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা ট্যাক্স দিতে হয় প্রতি বছর।
অন্যদিকে, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, যাদের অধিকাংশই লাইসেন্সবিহীন, দেশের সম্পদ নষ্ট করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব রিকশার গ্যারেজে কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা বিদ্যুৎ মিটার নেই। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫০-২০০ রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হয়। এর ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সংকট তৈরি হচ্ছে। ঢাকাবাসীকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গিয়ে এই ধাক্কা গ্রামাঞ্চল ও জেলা শহরে পড়ছে। কৃষকরা ফসলে সেচ দিতে পারছেন না, আর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে এসব অটোরিকশা চালকদের অধিকাংশই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মী, যারা আত্মগোপনে রিকশা চালকের ছদ্মবেশে রয়েছেন। তাদের অশোভন ভাষা, আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, এবং মব তৈরিতে উসকানি দেওয়ার মতো আচরণ এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করে। মাত্র ২-৩ বছর আগেও রিকশা চালকদের ব্যবহার ছিল নম্র, কিন্তু এখন তাদের মুখের ভাষা শুনে লজ্জায় পড়তে হয়।
এই অটোরিকশাগুলো মূল সড়ক, ভিআইপি জোন, ফ্লাইওভার, এমনকি এক্সপ্রেসওয়েতেও চলছে, যার ফলে প্রতিদিন শত শত দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৯০% সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এই ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকরা দায়ী, এবং গড়ে প্রতিদিন ৫ জনের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে তারা।
দায়িত্বশীলদের এখনই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এই অটোরিকশা চালকদের পরিচয় খতিয়ে দেখা এবং তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি। নইলে, গাড়ির মালিকদের ট্যাক্স না দেওয়ার ঘোষণা জাতীয় আলোচনার বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.