Tuesday, September 2, 2025

বিচারকদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে: হাইকোর্ট

সারাদেশের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব এখন থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে বলে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়াও, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ ও চতুর্থ সংশোধনীর বিধান বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এছাড়াও, আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি আলাদা সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এর আগে সকালে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের রায় ঘোষণা শুরু হয়। গত ১৩ আগস্ট, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়, এবং রায়ের জন্য এই দিনটি নির্ধারিত হয়েছিল। শুনানিতে রিটের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং ইন্টারভেনর হিসেবে অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম শুনানি করেন। গত ২৩ এপ্রিল, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। এর আগে, ২০ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এই বিষয়ে দায়ের করা রিট নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে বেঞ্চ গঠন করেন। এর আগে, মামলাটি বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি ও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। তবে গত ২৪ মার্চ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় সেই বেঞ্চ ভেঙে যায়। এরপর রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য নতুন বেঞ্চ গঠনের আবেদন করেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট তিনি ১০ জন আইনজীবীর পক্ষে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। পরে হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চান, কেন বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। বর্তমান সংশোধিত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে। কিন্তু ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, বিচারকর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্বে নিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোতে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাবিধির ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব রয়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.